গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় অভিনব এক ঘটনায় পুকুরের পানির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গোপনে মজুদ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ২০০ লিটারের একটি ডিজেলভর্তি ব্যারেল উদ্ধার করা হয় স্থানীয় একটি পুকুর থেকে। একই ঘটনায় জড়িত এক নারী তেল ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের হিজলবাড়ী গ্রামে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কোটালীপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে প্রশাসন নিশ্চিত হয় যে, স্থানীয়ভাবে জ্বালানি তেলের সংকট বা বাজারমূল্য বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের সময় পুকুরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় একটি বড় ব্যারেল শনাক্ত করা হয়। পরে সেটি পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হলে দেখা যায়, এতে প্রায় ২০০ লিটার ডিজেল সংরক্ষিত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অধিক মুনাফার আশায় এই তেল দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল যাতে নজরদারি এড়ানো যায়।
অভিযুক্ত তেল ব্যবসায়ী হলেন কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের হিজলবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী আসমা খাতুন। ঘটনাস্থলেই উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুদ করে দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ছিল। এই ঘটনার মাধ্যমে সেই অভিযোগের কিছুটা সত্যতা মিলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় |
তথ্য |
| ঘটনাস্থল |
হিজলবাড়ী গ্রাম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ |
| উদ্ধারকৃত জিনিস |
২০০ লিটার ডিজেলভর্তি ব্যারেল |
| লুকানোর স্থান |
পুকুরের পানির নিচ |
| অভিযুক্ত |
আসমা খাতুন (তেল ব্যবসায়ী) |
| আইনগত ব্যবস্থা |
১০,০০০ টাকা জরিমানা |
| অভিযান পরিচালনা |
সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ |
| অভিযানের উদ্দেশ্য |
অবৈধ জ্বালানি মজুদ প্রতিরোধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ |
প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ বা কালোবাজারির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।