ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার Oscar dos Santos Emboaba Júnior হঠাৎ করেই পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন গুরুতর হৃদরোগজনিত সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে। তাঁর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও ক্লাবের প্রতি দায়বদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তার বর্তমান ক্লাব São Paulo FC জানিয়েছে, অস্কারের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি ছিল, তবে শরীরের অবস্থা অজানা ঝুঁকি তৈরি করায় চুক্তি বাতিল করতে হয়েছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরে হৃদযন্ত্রের জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল অস্কারকে। চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে তার শরীরে ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ নামক সমস্যার উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন, যা হঠাৎ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন কমিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে অস্কার আবেগঘন বার্তায় বলেছেন, “আমি আরও খেলতে চেয়েছিলাম, ক্লাবকে আরও কিছু দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে থামিয়ে দিয়েছে। এখন একজন সমর্থক হিসেবে সাও পাওলোর পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করছি।”
অস্কারের আন্তর্জাতিক ও ক্লাব স্তরের ক্যারিয়ার দীর্ঘ ও সাফল্যপূর্ণ ছিল। তিনি ইংল্যান্ডের ক্লাব Chelsea FC এর হয়ে দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন। পরে চীনের Shanghai Port FC দলে যোগ দিয়ে তিনবার চীনা সুপার লিগ জিতেছেন। ২০২৪ সালে শৈশবের ক্লাব São Paulo FC এ ফিরে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন, তবে স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে সেই অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
জাতীয় দলের হয়ে অস্কারের অন্যতম সাফল্য ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ জয়। এছাড়া ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন এই মিডফিল্ডার। তার সৃজনশীল খেলা, পাসিং দক্ষতা ও ফ্রি-কিকের পারদর্শিতা তাকে দেশের ও ক্লাবের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা এনে দিয়েছে।
নিচের টেবিলে অস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় |
বিবরণ |
| বয়স |
৩৪ বছর |
| অবসরের কারণ |
হৃদরোগজনিত সমস্যা, ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ |
| বর্তমান ক্লাব |
সাও পাওলো |
| পূর্ববর্তী ক্লাব |
চেলসি (ইংল্যান্ড), সাংহাই পোর্ট (চীন) |
| গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা |
প্রিমিয়ার লিগ (২), চীনা সুপার লিগ (৩), কনফেডারেশনস কাপ (১) |
| জাতীয় দলের উল্লেখযোগ্য গোল |
২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র গোল |
| বার্তা |
“আমি আরও খেলতে চেয়েছিলাম, এখন সমর্থক হিসেবে পাশে থাকব” |
অস্কারের এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য শোকের বিষয় হলেও তার নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে তা যৌক্তিক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্কারের অবদান ভবিষ্যতের প্রজন্মের ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং তিনি নতুনভাবে ফুটবল জগতে মেন্টর ও সমর্থকের ভূমিকা গ্রহণ করবেন।
এভাবেই অস্কার মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বন্ধ করে, কিন্তু তার প্রভাব এবং অর্জিত খ্যাতি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।