খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনে এক স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচের সময় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক আম্পায়ার নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও এক আম্পায়ার এবং একাধিক দর্শক আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় ক্রিকেট সম্প্রদায় ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার স্থানীয় দুটি দলের মধ্যকার ক্রিকেট ম্যাচ পরিচালনা করছিলেন আম্পায়ার দোলা অজিত বাবু এবং তার সহকর্মী বুদুমুরি চিরঞ্জীবী। ম্যাচ চলাকালীন একটি রান আউটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। অজিত ও চিরঞ্জীবী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তর্ক ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিশাখাপত্তনের পুলিশ জানিয়েছে, কান্তা কিশোর নামে এক দর্শক প্রথমে দুই দলের খেলোয়াড় ও আম্পায়ারদের উদ্দেশ্যে গালাগালি শুরু করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি আম্পায়ারদের কাছে ডেকে আনেন। অজিত, চিরঞ্জীবী এবং কয়েকজন ক্রিকেটার ও দর্শক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ কান্তা পকেট থেকে ছুরি বের করে অজিতকে কোপাতে শুরু করেন। চিরঞ্জীবী এবং একজন দর্শক কান্তাকে থামানোর চেষ্টা করায় তারা আহত হন। গুরুতর অবস্থায় অজিতকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত চিরঞ্জীবী এবং দর্শককে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
অজিতের বাবা ডোলা আপ্পালা রাজু থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ২৬ বছর বয়সী কান্তা কিশোর এখনও পলাতক রয়েছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | বিশাখাপত্তন, অন্ধ্র প্রদেশ, ভারত |
| তারিখ | রোববার, ২০২৬ সালের এপ্রিল |
| নিহত আম্পায়ার | দোলা অজিত বাবু |
| আহত | বুদুমুরি চিরঞ্জীবী (আম্পায়ার), এক দর্শক |
| হামলাকারী | কান্তা কিশোর, ২৬ বছর বয়সী পলাতক |
| ঘটনার কারণ | রান আউট নিয়ে বিতর্ক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি |
| পুলিশি পদক্ষেপ | মামলা দায়ের ও তদন্ত শুরু |
এই ঘটনাটি স্থানীয় ক্রিকেটের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক সতর্কবার্তা। ছোট স্থানীয় ম্যাচেও দর্শক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা এবং হিংসা মারাত্মক আকার নিতে পারে। বিশেষ করে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং আগ্নেয়াস্ত্র বা ছুরির মতো অবৈধ অস্ত্র থাকলে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনায় মাঠে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সতর্কতা এবং জরুরি পদক্ষেপ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে পুনরায় এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।
রান আউট নিয়ে বিতর্ক থেকে শুরু হওয়া এই খুনের ঘটনা স্থানীয় ক্রিকেট সমাজকে শোক ও হতাশায় ডুবিয়েছে। এক আম্পায়ারের মৃত্যু, অন্যদের আহত হওয়া এবং হামলাকারীর পলাতক থাকা দেশের ক্রিকেট প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।