খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানকে “সম্পূর্ণ ধ্বংসের” হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান ওই প্রস্তাবকে “অন্যায্য ও একপাক্ষিক” বলে প্রত্যাখ্যান করার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে। এই ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে ইরানের একাধিক আবাসিক এলাকায় বোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জানানো হয়েছে , আলবোরজ প্রদেশের একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় চালানো বিমান হামলায় দুই শিশুসহ ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের ডেপুটি গভর্নর এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই ঘটনায় আরও অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আলবোরজ প্রদেশের পাশাপাশি দেশের পশ্চিমাঞ্চলের খোরামাবাদ বিমানবন্দরও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অবকাঠামোগত এই স্থাপনাটিতে হামলার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে জরুরি টিম কাজ করছে।
এদিকে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দেশজুড়ে অন্তত ১৭টি বেসামরিক এলাকা একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা এটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর চালানো এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা দুই ডজনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
| স্থান | নিহত | আহত | পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| আলবোরজ প্রদেশ (আবাসিক এলাকা) | ১৮ জন (২ শিশু) | ২৪ জন | ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার অভিযান চলছে |
| খোরামাবাদ বিমানবন্দর | নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত নয় | আহতদের তথ্য অনিশ্চিত | অবকাঠামোগত ক্ষতি, মূল্যায়ন চলমান |
| অন্যান্য ১৭টি বেসামরিক এলাকা | প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ ডজন নিহতের খবর | বহু আহত | বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতার উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে।
বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।