খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
বিচার বিভাগ সম্পর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের অভিযোগে অধস্তন আদালতের ২৮ জন বিচারককে শোকজ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। তাদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জারি করা শোকজ নোটিশের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, এই বিচারকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সম্পর্কিত বিরূপ মন্তব্য করেছেন। উক্ত মন্তব্যে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও উসকানি প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে, যা অসদাচরণ (Misconduct) হিসেবে গণ্য হবে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ কার্যকলাপ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২ (চ) (২) লঙ্ঘন করেছে। এই ধারা অনুযায়ী, চাকরির শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর যে কোনো কার্যকলাপকে অসদাচরণের আওতায় ধরা হয়। শোকজের মাধ্যমে বিচারকদের লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, যাতে ঘটনা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আইন মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে, সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দাখিল করতে হবে। ব্যাখ্যা পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচার বিভাগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সীমা স্পষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ বিচারকরা তাদের পদে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মন্তব্য করলে তা বিচার বিভাগের প্রতি আস্থার ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের দৃষ্টিতে বিচার করা হয়।
নিচে বিষয়টি সংক্ষেপে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| শোকজপ্রাপ্ত সংখ্যা | ২৮ জন অধস্তন আদালতের বিচারক |
| অভিযোগের ধরন | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য, উসকানি মূলক পোস্ট |
| সংশ্লিষ্ট বিধিমালা | বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ |
| লঙ্ঘিত ধারা | বিধি ২ (চ) (২) – চাকরির শৃঙ্খলার ক্ষতিকর কার্যকলাপ |
| শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া | সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল |
| নির্দেশ জারি | আইন মন্ত্রণালয়, ৭ এপ্রিল ২০২৬ |
আইন ও বিচার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারকদের ব্যবহার সংক্রান্ত স্পষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত। এটি কেবল শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নয়, বরং জনগণের চোখে বিচার বিভাগের নৈতিক ও পেশাগত আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক।
অতএব, শোকজ কার্যক্রমকে বিচার বিভাগে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও আস্থার পুনঃস্থাপনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, যথাযথ ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হবে।
সর্বশেষে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং বিচারকদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিশ্চিত করা দেশের বিচার ব্যবস্থার সুনাম রক্ষার জন্য অপরিহার্য।