খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে একক মায়েদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নারীরা সীমিত আয়ের মধ্যে সন্তান পালনের দায়িত্ব একাই বহন করছেন, যা তাদের আর্থিক নিরাপত্তাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে জীবনবীমা এবং সঞ্চয়ভিত্তিক বীমা কেবল বিলাসিতা নয়, বরং এক জরুরি আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, দেশের জীবনবীমার অনুপ্রবেশ মাত্র ০.৪০% থেকে ০.৫০% পর্যন্ত সীমিত। আঞ্চলিক তুলনায় এটি অনেক কম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বীমা প্রতিষ্ঠান নারী-কেন্দ্রিক পলিসি চালু করেছে, যা সিঙ্গেল মাদারদের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
নিম্নের টেবিলে কিছু জনপ্রিয় নারী-কেন্দ্রিক বীমার তথ্য তুলে ধরা হলো:
| প্রতিষ্ঠান | পলিসি নাম | মাসিক/বার্ষিক প্রিমিয়াম | কভারেজ | বিশেষ সুবিধা |
|---|---|---|---|---|
| গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স | ইজিল্যাইফ জায়া | ৩৫০ টাকা মাসিক | ৫ লাখ টাকা | গুরুতর রোগ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা |
| গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স | নিবেদিতা | ৫৮০ টাকা বার্ষিক | ১–১০ লাখ টাকা | দুর্ঘটনা, ট্রমা, এসিড আক্রমণ, ধর্ষণ, ডাকাতি |
| মেটলাইফ বাংলাদেশ | এডুকেশন প্রোটেকশন প্ল্যান | পরিবর্তনশীল | সন্তানের শিক্ষার জন্য মাসিক ভাতা | মায়ের মৃত্যু হলে প্রিমিয়াম মওকুফ, শিক্ষা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা |
এই ধরনের পলিসি সিঙ্গেল মাদারদের জন্য বহুমাত্রিক সুরক্ষা প্রদান করে। মায়ের অনুপস্থিতিতেও সন্তান শিক্ষার সুযোগ পায়, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়, এবং নিয়মিত প্রিমিয়ামের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় গড়ে ওঠে। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল ফর ইক্যুইটি ইন হেলথ’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ২৬% পরিবার জটিল রোগের চিকিৎসার কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়। পাশাপাশি দেশের ২৬% ব্যবসার মালিক নারী, যারা বার্ধক্যকালীন আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের বীমার ওপর নির্ভরশীল।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ২০২৪ সালে জীবনবীমার গড় দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ৬৬.০৩%, যা পূর্বের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দিতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় বীমা সেবার প্রবেশাধিকার এখনও সীমিত, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাধা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারী-কেন্দ্রিক বীমার কার্যকারিতা বাড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি, দাবি নিষ্পত্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সহজলভ্যতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। সরকারি উদ্যোগ হিসেবে ২০২৬ সালের মধ্যে বার্ষিক ৬০–১,০১৫ টাকা প্রিমিয়ামের মধ্যে মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা বীমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার আওতায় সর্বোচ্চ ৪১,০০০ টাকা পর্যন্ত কভারেজ দেওয়া হবে। এটি নিম্নআয়ের নারীদের জন্য প্রাথমিক আর্থিক সুরক্ষা নেট তৈরি করবে।
সিঙ্গেল মাদারদের জন্য বীমা শুধুমাত্র আর্থিক নিরাপত্তা নয়, এটি স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা এবং সন্তানের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার প্রতীক। তবে এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে প্রিমিয়াম সাশ্রয়ী ও দাবি নিষ্পত্তি স্বচ্ছ থাকা জরুরি।