খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে চৈত্র ১৪৩২ | ৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ‘আমার প্রিয় ভাই’ সম্বোধন করে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এই বার্তাটি পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেন, যা ইসলামাবাদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতি ওয়াশিংটনের স্বীকৃতির ইঙ্গিত বহন করে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা লেবাননসহ সব প্রভাবিত এলাকায় কার্যকর হবে।” তিনি উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং উভয় পক্ষকে ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল মুনিরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ফিল্ড মার্শাল মুনির পাকিস্তানের ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের সঙ্গে রাতভর যোগাযোগ রক্ষা করেন।
পাকিস্তান মার্চের শেষ দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিল। ২৯ মার্চ তারা তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পর পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেয় এবং পরে ইরানের জবাব ওয়াশিংটনকে জানায়।
| বিষয় | পাকিস্তানের ভূমিকা | ফলাফল |
|---|---|---|
| মধ্যস্থতাকারী | উভয় পক্ষের আস্থা অর্জন | দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি |
| কূটনৈতিক যোগাযোগ | রাতভর প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ | সফল সমঝোতা |
| আন্তর্জাতিক বৈঠক | তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর | প্রস্তাব বিনিময় ও আলোচনার পথ সুগম |
| অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা | সীমান্ত শান্তি ও স্থিতিশীলতা | প্রতিবেশী দেশগুলোর আস্থা বৃদ্ধি |
ইরান আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে বিশ্বাস করে না। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে সুদৃঢ়। ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাকিস্তানের নিরপেক্ষ অবস্থানও ইরানের আস্থাকে বৃদ্ধি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও গত এক বছরে দৃঢ় হয়েছে, বিশেষত ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ পাকিস্তানের অংশগ্রহণের কারণে।
পাকিস্তানের জন্য এই যুদ্ধবিরতি শুধুই কূটনৈতিক নয়, বরং জীবন-মরণ সম্পর্কিত। দেশটির অধিকাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠান এবং অর্থনীতি যুদ্ধের প্রভাব থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের অস্থিরতা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
যুদ্ধবিরতি এখনও অস্থির। যদি আলোচনায় ব্যর্থতা ঘটে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উভয় পক্ষের কোনো একটি আবার দেশটিকে দায়ী করতে পারে। এছাড়া পাকিস্তান নিজে শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক শক্তি নয়; যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে দেশটি উভয়সংকটে পড়বে।
পাকিস্তানের কূটনীতি ও ধৈর্যই এখন মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক শান্তি স্থাপনের মূল চাবিকাঠি। দেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হলেও, এর স্থায়ীত্ব নির্ভর করছে দুই পক্ষের সদিচ্ছার ওপর।