খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে চৈত্র ১৪৩২ | ৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ নেতৃত্বে এক নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত কমিটিকে ভেঙে দিয়ে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিদায় নিতে হলো বুলবুল কমিটিকে। এই রদবদল কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ ক্রিকেটেই নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে পূর্ববর্তী কমিটির বিরুদ্ধে সরকারি প্রভাব বিস্তার, ই-ভোটিং প্রক্রিয়ায় সূক্ষ্ম অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দেশের ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে আগামী তিন মাসের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের প্রধান কাজ হবে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবির স্থায়ী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা।
বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে এই বড় পরিবর্তনকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। তামিম ইকবালের মতো একজন আধুনিক ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বিসিবির হাল ধরায় আশার আলো দেখছে ভারত। বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লা সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তামিমকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন যে, একজন সাবেক তারকা ক্রিকেটার হিসেবে তামিমের নেতৃত্ব দেশি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। রাজীব শুক্লার এই প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তার পেছনে গভীর কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়া ক্রিকেটের মাঠেও দীর্ঘ হয়েছে। বিশেষ করে গত আইপিএল মৌসুমে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত দুই দেশের বোর্ড সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। যদিও বিসিবি তখন ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। কিন্তু বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং তামিম ইকবালের ব্যক্তিগত ইমেজ এই দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
| বিষয়ের নাম | বিবরণ |
| নতুন সভাপতি | তামিম ইকবাল |
| কমিটির ধরণ | ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি |
| পূর্ববর্তী সভাপতি | আমিনুল ইসলাম বুলবুল |
| বাতিলের কারণ | অনিয়ম, সরকারি প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার |
| কমিটির মেয়াদ | ৩ মাস (অন্তর্বর্তীকালীন) |
| প্রধান লক্ষ্য | স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন |
| ভারতের প্রতিক্রিয়া | ইতিবাচক; রাজীব শুক্লা কর্তৃক অভিনন্দন বার্তা প্রেরণ |
তামিম ইকবালের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া ক্রিকেটীয় কাঠামোকে পুনর্গঠন করা এবং আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা। বিশেষ করে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর জট খোলার জন্য তার অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে। রাজীব শুক্লার শুভেচ্ছাবার্তা এটিই প্রমাণ করে যে, মাঠের লড়াই যাই হোক না কেন, প্রশাসনিক পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে তামিম ইকবাল বাংলাদেশের ক্রিকেটে কতটা শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে পারেন।