ক্রিকেট ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব কীর্তি গড়লেন ব্রাজিলের নারী ক্রিকেটার লরা কারদোসো। মাত্র ২১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এক ইনিংসে ৯ উইকেট শিকার করে তিনি স্থাপন করেছেন বিশ্বরেকর্ড, যা পুরুষ ও নারী—উভয় ক্রিকেট মিলিয়েই প্রথমবারের মতো ঘটল। ফুটবলের জন্য বিশ্বখ্যাত ব্রাজিল এবার ক্রিকেটের মানচিত্রেও নিজের নাম জোরালোভাবে লিখে দিল এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে।
ঘটনাটি ঘটে আফ্রিকার দেশ বোতসোয়ানায় অনুষ্ঠিত কালাহারি নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে। প্রতিপক্ষ ছিল লেসোথো নারী দল। ম্যাচটিতে কারদোসো বল হাতে সম্পূর্ণ বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। মাত্র ৩ ওভার বল করে তিনি ২টি মেডেনসহ মাত্র ৪ রান খরচায় তুলে নেন ৯টি উইকেট। তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩-২-৪-৯, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নতুন ইতিহাস।
এই বিধ্বংসী স্পেলে ছিল একটি হ্যাটট্রিকও, যা ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণভাবে ব্রাজিলের পক্ষে নিয়ে যায়। লেসোথোর ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত কারদোসোর স্পিন ও লাইন-লেংথের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। তার প্রতিটি ওভারেই তৈরি হয় চাপ, আর প্রতিটি ডেলিভারিতে আসে উইকেটের সম্ভাবনা।
এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ বোলিং ফিগারের রেকর্ড ছিল ভুটানের সোনাম ইয়েসেইয়ের দখলে। তিনি ২০২৫ সালে মিয়ানমারের বিপক্ষে ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। নারী ক্রিকেটে সেরা রেকর্ড ছিল ইন্দোনেশিয়ার রোহমালিয়া রোহমালিয়ার নামে, যিনি ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে কোনো রান না দিয়ে ৭ উইকেট শিকার করেন। কারদোসো সেই দুই রেকর্ডকেই ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
নিচে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো—
| খেলোয়াড় |
দেশ |
প্রতিপক্ষ |
বছর |
বোলিং ফিগার |
বিশেষ অর্জন |
| লরা কারদোসো |
ব্রাজিল |
লেসোথো |
২০২৬ |
৩-২-৪-৯ |
বিশ্বরেকর্ড, হ্যাটট্রিকসহ |
| সোনাম ইয়েসেই |
ভুটান |
মিয়ানমার |
২০২৫ |
৪ ওভারে ৭ রানে ৮ উইকেট |
পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ পুরুষ/নারী টি-২০ রেকর্ড |
| রোহমালিয়া রোহমালিয়া |
ইন্দোনেশিয়া |
মঙ্গোলিয়া |
২০২৪ |
৭ উইকেট, কোনো রান নয় |
নারী টি-টোয়েন্টিতে সেরা অর্থনৈতিক বোলিং |
লরা কারদোসোর এই কীর্তি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ব্রাজিলীয় ক্রিকেটের জন্যও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ফুটবলে বিশ্বসেরা পরিচয়ের পাশাপাশি দেশটি এখন ধীরে ধীরে ক্রিকেটেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে, বিশেষ করে নারীদের ক্রিকেটে।
এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে ব্রাজিল আরও শক্ত অবস্থান নিয়েছে। গ্রুপপর্বে এখন পর্যন্ত তারা পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে এবং পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত তারা একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে টুর্নামেন্টে দাপট বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লরা কারদোসোর এই পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, বরং নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। তার এই রেকর্ড ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং ব্রাজিলীয় ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তভাবে পরিচিত করে তুলবে।