খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যে তিন দফা দাবিতে চলমান আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ—প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন।
অনশনস্থলে উপস্থিত হয়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবেন।
উপাচার্য বলেন, বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত, এবং এর চূড়ান্ত সমাধান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নয়, বরং জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
তবে উপাচার্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম জানান, তাদের অবস্থান কোনোভাবেই পরিবর্তন করা হবে না যতক্ষণ না তিন দফা দাবি পূরণ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, উপাচার্যের বক্তব্যে সরকারের অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে এবং তার আচরণে আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতির ঘাটতি ছিল। তাঁর ভাষায়, আন্দোলনকারীরা অনশন শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছেন যে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন ভাঙবেন না।
তিনি আরও বলেন, “আমরা হয় লড়াই করব, না হয় জীবন দেব—এখানে কোনো আপস নেই।”
অনশন কর্মসূচিতে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেন এবং শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।
তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। তাঁদের উপস্থিতি আন্দোলনস্থলে রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন তিনজন শিক্ষার্থী—
তাঁদের দাবি মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোটের রায় কার্যকরসহ রাজনৈতিক ও নীতিগত কিছু ইস্যু বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | রাজু ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| আন্দোলনের ধরন | আমরণ অনশন |
| অংশগ্রহণকারী | ৩ জন শিক্ষার্থী |
| দাবির সংখ্যা | ৩ দফা দাবি |
| প্রশাসনিক উপস্থিতি | উপাচার্যসহ ৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা |
| রাজনৈতিক সংহতি | ৩ জন সংসদ সদস্য |
| বর্তমান অবস্থা | অনশন অব্যাহত, সমাধান অনিশ্চিত |
ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার আহ্বান জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা অনড় অবস্থানে রয়েছেন। ফলে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় এই আন্দোলন এখন প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক—তিনটি মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সংকটে রূপ নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছে, তবে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।