খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর প্রতিবেশীকে ফোন করে লাশ উদ্ধার করার অনুরোধ জানিয়ে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জংলাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়। পরে গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ ওই বাসা থেকে ঝর্ণা আক্তার (১৬) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ঝর্ণা আক্তার জংলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মো. অপু নামের এক যুবকের সঙ্গে নিজের পছন্দে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অপু পেশায় মিনিবাস চালক হিসেবে কাজ করতেন। বিবাহের পর থেকে তারা শ্রীপুর পৌরসভার জংলাপাড়া এলাকার মাসুদ মিয়ার মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ওই বাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনার সময় তালাবদ্ধ ছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার সময় অভিযুক্ত অপু বাড়ির অন্য এক ভাড়াটিয়া তানিয়াকে মুঠোফোনে কল করেন। ওই ফোনালাপে তিনি জানান যে তিনি তাঁর স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারকে হত্যা করেছেন এবং লাশটি যেন কেউ উদ্ধার করেন। এই তথ্য পাওয়ার পরই স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালাবদ্ধ কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝর্ণা আক্তারের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
বাড়ির মালিক লাভলী আক্তার জানান, অপু নিজেই ফোন করে হত্যার বিষয়টি জানানোর পর তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত ঝর্ণা আক্তারের বাবা হামিদুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই বছর আগে তার মেয়ে নিজের পছন্দে অপুকে বিয়ে করে আলাদা জীবনযাপন করছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে ঝর্ণার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। ঘটনার দিন রাতে তিনি জানতে পারেন যে তার মেয়ের মরদেহ ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অপু তার মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী অপু পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটির সারসংক্ষেপ নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | ঝর্ণা আক্তার (১৬) |
| পিতা | হামিদুল ইসলাম |
| স্বামী (অভিযুক্ত) | মো. অপু |
| পেশা | মিনিবাস চালক |
| ঘটনার স্থান | জংলাপাড়া, শ্রীপুর পৌরসভা, গাজীপুর |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটা |
| পুলিশের পদক্ষেপ | দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তে প্রেরণ |
| বর্তমান অবস্থা | অভিযুক্ত পলাতক, গ্রেপ্তার অভিযান চলমান |
এই ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।