খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কারাবন্দি সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তার স্বাক্ষর গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন তার পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রার্থিতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করতে হলে ব্যারিস্টার সুমনের স্বাক্ষর গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
আইনজীবী লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ব্যারিস্টার সুমন বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক। কিন্তু বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষর করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে আদালত বা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার স্বাক্ষর নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ওই সময় তৎকালীন সরকার পতনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বহু ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। ওই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ২২ অক্টোবর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মোট সাতটি মামলায় তার নাম রয়েছে বলে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানা যায়। এসব মামলার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, যা আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন আইনজীবী সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়। আইন পেশার নীতিমালা, শৃঙ্খলা, সনদ প্রদান ও নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আইনজীবীরা মনে করেন, বার কাউন্সিল নির্বাচন কেবল একটি পেশাগত নির্বাচন নয়, বরং এটি দেশের বিচারব্যবস্থার কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই প্রার্থিতা, মনোনয়ন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর নিয়মের মধ্যে পরিচালিত হয়।
নিচে ব্যারিস্টার সুমনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বার কাউন্সিল নির্বাচন সংক্রান্ত ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| তারিখ/সময়সীমা | ঘটনা |
|---|---|
| ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট | ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সরকার পতন |
| ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর | ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের গ্রেপ্তার |
| গ্রেপ্তারের পরবর্তী সময় | একাধিক মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত (মোট ৭টি মামলা) |
| ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল | বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে স্বাক্ষরের জন্য আবেদন দাখিল |
| ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল | মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় |
| ২০২৬ সালের ১৯ মে | বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত তারিখ |
বর্তমানে ব্যারিস্টার সুমনের নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তার পক্ষে দাখিল করা আবেদনটি এখন ঢাকার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন কি না।
আইনজীবী মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাবন্দি অবস্থায়ও প্রার্থিতার সুযোগ নিশ্চিত করা যেতে পারে, যদি যথাযথ অনুমতি ও প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়সীমা বিবেচনায় বিষয়টি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং বলেও মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন বার কাউন্সিল নির্বাচনকে ঘিরে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আইনজীবী সমাজে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।