খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে নির্মাণ সামগ্রী রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বেসরকারি ও সরকারি নির্মাণ কাজের বিভিন্ন উপকরণ ফেলে রাখায় যানজট বৃদ্ধি এবং পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ অবস্থায় দ্রুত এসব সামগ্রী সরিয়ে নিতে নগরবাসী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ কাজের নামে ইট, বালু, রড, সিমেন্টসহ নানা ধরনের উপকরণ দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা ও ফুটপাতে ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে শুধু যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম ডিএমপি অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর ৬৭, ৬৮, ৭২ ও ১০২ ধারা এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৭ ও ৮২ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী জনসাধারণের চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ডিএমপি জানিয়েছে, শিগগিরই মহানগরীতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। এ অভিযানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। যেখানে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে রাখা নির্মাণ সামগ্রী তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ ও অপসারণ করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগর কর্তৃপক্ষের মতে, রাজধানীর যানজট ও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবস্থাপনা। অনেক ক্ষেত্রে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক বা ঠিকাদাররা কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই রাস্তার ওপর সরঞ্জাম ফেলে রাখেন, যা যানবাহন চলাচলকে সংকুচিত করে তোলে।
নিচে ফুটপাত ও রাস্তা দখলজনিত সমস্যার প্রধান প্রভাবগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| সমস্যা | প্রভাব |
|---|---|
| যানজট বৃদ্ধি | সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায় |
| পথচারী দুর্ভোগ | হাঁটার জায়গা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে |
| দুর্ঘটনা বৃদ্ধি | রড, বালু ও সরঞ্জামে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারায় |
| পরিবেশগত সমস্যা | ধুলাবালি ও বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে |
| আইন লঙ্ঘন | নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় |
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের দ্রুত তাদের নির্মাণ সামগ্রী নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ঢাকা মহানগরীকে একটি শৃঙ্খলিত ও নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম দূর করতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি নির্মাণস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নির্ধারিত স্টোরেজ জোন ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর করা হলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
সব মিলিয়ে ডিএমপির এই উদ্যোগ রাজধানীর সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক তদারকির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিও সমানভাবে প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।