খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের দত্তপাড়া এলাকায় এক সাত বছরের শিশু কন্যাকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা আবদুল বারেককে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) এক কর্মচারীর শিশু কন্যাকে বাসায় একা পেয়ে ধর্ষণের মতো এই জঘন্য ও পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। গত ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ধামরাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ এপ্রিল সাভারের বিরুলিয়া সংলগ্ন দত্তপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা উভয়ই পেশাজীবী এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত। ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে শিশুটির বাবা-মা তাদের কর্মস্থলে ছিলেন। বাসায় তখন শিশুটি তার ৪ বছর বয়সী ছোট বোনের সাথে বসে টেলিভিশন দেখছিল। এই সুযোগে লম্পট বাড়িওয়ালা আবদুল বারেক কৌশলে বাসায় প্রবেশ করে।
তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বারেক মিয়া প্রথমে ছোট বোনটিকে ১০ টাকা দিয়ে পাশের দোকান থেকে চকলেট আনতে পাঠিয়ে দেয়। ছোট শিশুটি ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই বারেক ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয় এবং সাত বছর বয়সী অসহায় শিশুটির ওপর পৈশাচিক যৌন নির্যাতন চালায়।
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শিশুটির মা কাজ থেকে বাসায় ফেরেন। ঘরে ঢুকেই তিনি দেখেন তার বড় মেয়ে অঝোরে কাঁদছে। মাকে দেখা মাত্রই শিশুটি ভয়ে ও আতঙ্কে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে এবং বাড়িওয়ালার সেই ঘৃণ্য অপকর্মের কথা সবিস্তারে জানায়। মা লক্ষ্য করেন শিশুটির কাপড় রক্তে রঞ্জিত এবং সে প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে।
অসহায় মা তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে নিয়ে বাড়িওয়ালার ঘরে যান এবং বারেক ও তার স্ত্রীর কাছে ঘটনার কৈফিয়ত চান। সে সময় বারেক মিয়া নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয়। তবে সে অনুতপ্ত হওয়ার বদলে সামাজিক মান-সম্মানের দোহাই দিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য শিশুটির পরিবারকে চাপ দেয়।
পরবর্তীতে শিশুটির বাবা কর্মস্থল থেকে ফিরে বিস্তারিত শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং পুনরায় বারেকের ঘরে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তখন অভিযুক্ত বারেক ও তার স্ত্রী ভুক্তভোগীর বাবার পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। ভুক্তভোগীর বাবা কৌশলে ঘরটির বাইরের ছিটকিনি আটকে দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে খবর দিতে যান। কিন্তু এই সুযোগে বারেকের স্ত্রী ঘরের দরজা খুলে দিলে অভিযুক্ত বারেক দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার সাথে সাথেই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল বডি ও সিকিউরিটি টিমের সদস্যরা ভুক্তভোগীর বাসায় উপস্থিত হন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাভারের বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে শিশুটিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করেন।
এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| ভুক্তভোগী | ৭ বছর বয়সী শিশু (বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীর সন্তান)। |
| প্রধান অভিযুক্ত | আবদুল বারেক (৫৮), পেশায় বাড়িওয়ালা। |
| ঘটনার স্থান | দত্তপাড়া, বিরুলিয়া, সাভার। |
| ঘটনার তারিখ | ৬ এপ্রিল, ২০২৬ (সোমবার সন্ধ্যা)। |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ (মঙ্গলবার রাত)। |
| গ্রেপ্তারকারী দল | সাভার মডেল থানা (নেতৃত্বে এসআই আল আমিন)। |
| বর্তমান অবস্থা | আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও জেলহাজতে প্রেরণ। |
সাভারের বিরুলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আল আমিন জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামি ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করছিল। শেষ পর্যন্ত তথ্য-প্রযুক্তির বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে ধামরাইয়ের একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক মিয়া শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। গত ১৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুটি আদালতে উপস্থিত হয়ে তার জবানবন্দি প্রদান করেছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অভিযুক্ত বারেক মিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানিয়েছে। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারটিকে আইনি ও মানসিকভাবে পূর্ণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে সাভার এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, চার্জশিট দ্রুত প্রদানের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চলছে।