খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরে এক কলেজছাত্রকে মারধরের পর নির্মাণাধীন ভবনের আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম আশফাক কবির সাজিদ (১৭)। গত রোববার রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত আশফাক কবির চট্টগ্রাম নগরের বাংলাদেশ বিমানবাহিনী শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। তিনি নগরের বাকলিয়া ডিসি রোড কবরস্থান সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিক মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে কথা বলার সময় একদল তরুণ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। এদের মধ্যে আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ আরও কয়েকজন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পরে তারা তাকে জোরপূর্বক একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়।
পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে আশফাক কাছাকাছি একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন এবং ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি দ্রুত ভবনের ওপরের দিকে উঠে যান এবং আটতলায় অবস্থান নেন। তবে হামলাকারীরা গেটের কাছে এসে ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এরপর হামলাকারীরা ভবনের ওপরতলায় উঠে আশফাককে মারধর করে।
একপর্যায়ে তাকে আটতলা থেকে ভবনের লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল না এবং কেন তাকে হত্যা করা হলো তা দ্রুত উদ্ঘাটন করতে হবে।
| নাম | ঘটনার সাথে সম্পর্কিত ভূমিকা (মামলার বর্ণনা অনুযায়ী) |
|---|---|
| ফারদিন হাসান | মুঠোফোনে ডেকে আনার অভিযোগ |
| আইমন | দলবদ্ধভাবে অবস্থান ও হুমকির অভিযোগ |
| অনিক | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের অভিযোগ |
| রানা মাইকেল | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের অভিযোগ |
| ইলিয়াস | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের অভিযোগ |
| এনায়েত উল্লাহ | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের অভিযোগ |
| মিসকাতুল কায়েস | দলবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের অভিযোগ |
| এনামুল হক | নিরাপত্তাকর্মী, গেট খোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার |
এ ঘটনায় নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটির বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।