খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
খুলনা রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত অবস্থায় সম্রাট বিশ্বাস (২৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি নিজের ইস্যুকৃত অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল, ২০২৬) ভোররাত আনুমানিক ৪টা ৩০ থেকে ৫টার মধ্যে সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত রেলওয়ে পুলিশ ব্যারাকের অস্ত্রাগার এলাকায় এই বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটে।
খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস ঘটনার সময় অস্ত্রাগার পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ভোররাতের দিকে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে ব্যারাকের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ লাইনসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হলে সেখানে দেখা যায়, সম্রাট বিশ্বাস নিজের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করছেন। ঘটনার পর খুলনা রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আহমেদ মাঈনুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত সম্রাট বিশ্বাসের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায়। তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পেশাগত জীবনে তাকে একজন দক্ষ ও সুশৃঙ্খল কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। গত বছরের নভেম্বর মাসে তিনি খুলনা রেলওয়ে জেলা পুলিশে বদলি হয়ে আসেন এবং সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
নিচে সম্রাট বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
| নাম | সম্রাট বিশ্বাস |
| পদবি | কনস্টেবল |
| বয়স | ২৫ বছর (আনুমানিক) |
| গ্রামের বাড়ি | কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ |
| পুলিশে যোগদান | ২০১৮ সাল |
| খুলনায় যোগদান | নভেম্বর, ২০২৫ |
| ঘটনার সময় | ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ভোর ৪:৩০ – ৫:০০ |
| ঘটনার স্থান | অস্ত্রাগার এলাকা, রেলওয়ে পুলিশ লাইনস, খুলনা |
পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিহত কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস একজন অত্যন্ত ভালো ও কর্তব্যপরায়ণ সদস্য ছিলেন। তবে কী কারণে বা কোন মানসিক চাপে তিনি এ ধরনের চরম পথ বেছে নিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
বর্তমানে সম্রাট বিশ্বাসের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আনুষঙ্গিক প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা না হলেও, খুব শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
পুলিশের পক্ষ থেকে তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি কোনো মানসিক সমস্যা বা পারিবারিক কলহে ভুগছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ডিউটিরত অবস্থায় নিরাপত্তার ঝুঁকি বা অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে পুলিশ লাইনসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রোটোকল পুনঃমূল্যায়ন করা হতে পারে।