খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় আট বছরের শিশু আতিকা আক্তার হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নিহত শিশুটির মা আরিফা আক্তার বাদি হয়ে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের মূল অভিযুক্ত কিশোর নাঈম, তার বাবা পান্নু মিয়া (৪৫), চাচা ফজলু মিয়া (৩০), ভাই নাজমুল হোসেন (২৪) এবং একই গ্রামের মো. রনি (২২)।
এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত নাঈমকে শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল চারটার পর বনপারিল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। এ সময় এক শিশু জানায়, আতিকাকে গ্রামের এক কিশোরের সঙ্গে দেখা গেছে।
পরবর্তীতে ওই কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া তথ্যমতে রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেত থেকে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরপরই অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত কিশোরের বড় ভাই নাজমুলকে আটক করে। পরে তার বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলু মিয়াকে ডেকে এনে রাত ১১টার দিকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পান্নু ও ফজলুর মৃত্যু হয়। পরে তাদের মরদেহ পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত নাজমুল হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এরপর পুলিশ নিহত শিশু আতিকা, পান্নু মিয়া ও ফজলু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় আতিকার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে এশার নামাজের পর বনপারিল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে গণপিটুনিতে নিহত পান্নু ও ফজলুর লাশও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত আতিকার চাচা মো. আলমাস হোসেন বলেন, “আমরা এই নির্মম হত্যার বিচার চাই। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত কিশোর নাঈমকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কিশোর আদালতে হাজির করা হবে। অন্য আসামি রনিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আহত নাজমুল হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম হোসেন জানান, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বনপারিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা বিরাজ করছে