খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর কাফরুল এলাকায় ১৮ বছর আগে সংঘটিত ১১ বছর বয়সী শিশু মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে মিলনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও একজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এই রায় ঘোষণা করে।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ কাফরুল থানার উত্তর সেনপাড়া এলাকা থেকে শিশু শফিকুল ইসলাম নিখোঁজ হয়। ঘটনার পরপরই তার পরিবারকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু মুক্তিপণের অর্থ না পাওয়ায় অপহরণকারীরা শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। হত্যার পর লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে সাভারের একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা শহিদুল ইসলাম কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন অবস্থায় ছিল এবং আদালতে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
আদালতের রায়ে তিনজন আসামির বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে দুইজন আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
| আসামির নাম | রায় | অর্থদণ্ড | অতিরিক্ত শাস্তি |
|---|---|---|---|
| আল আমিন ঘরামী | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | ১ লাখ টাকা | অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| মাসুদ রানা | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | ১ লাখ টাকা | অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুল | ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড | ১ লাখ টাকা | অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
রায় ঘোষণার সময় মাসুদ রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য দুই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মো. আবদুল মোতালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেন।
এই মামলার রায় প্রায় ১৮ বছর পর ঘোষণা হলো, যা দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু অপহরণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে আদালতের এই রায় আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের বক্তব্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছিল।
শিশু অপহরণ ও হত্যার ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এমন অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার কঠোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এই রায়কে অনেকে ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর হলেও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায়।
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংস অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।