খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২০ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রস্তাবটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে পাঠানো হবে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা বিদ্যুৎ বিভাগের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই ঘাটতি কমাতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে পাইকারি পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি করে ভর্তুকি ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া লাইফলাইন গ্রাহক ব্যতীত অন্যান্য আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এতে ভর্তুকির চাপ কিছুটা লাঘব হতে পারে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে এই ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বর্তমানে বকেয়া বিলের পরিমাণ ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। গত সাত থেকে আট মাস ধরে বিল পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় এসব কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি আমদানি করা বিদ্যুতের জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বিলও বকেয়া রয়েছে।
নিচে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আয়, ব্যয় ও ঘাটতির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সূচক | পরিমাণ (কোটি টাকা) |
|---|---|
| মোট আয় | ৭০,৯২৬ |
| মোট ব্যয় | ১,২৬,৫৮৫ |
| মোট ঘাটতি | ৫৫,৬৫৮ |
| প্রাপ্ত ভর্তুকি | ৩৮,৬৩৬ |
| নিট ঘাটতি | ১৭,০২১ |
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় না করলে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মোট অর্থের প্রয়োজন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। তবে বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগ পেয়েছে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।