খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
দেশে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের পর বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য সংকট নিরসনে আজ সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) থেকে ডিপো পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন বরাদ্দ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করেছে।
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসি মাসুম হিমেল স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:
ডিজেলের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে ১০ শতাংশ।
পেট্রলের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে ১০ শতাংশ।
অকটেনের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে ২০ শতাংশ।
এই বর্ধিত হারের তেল ২০ এপ্রিল থেকেই দেশের সকল ডিপো থেকে বিতরণ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত বাজারে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত রেখে কৃত্রিম সংকট রোধ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। নিচে পূর্বের মূল্যের তুলনায় বর্তমান বর্ধিত মূল্যের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| জ্বালানির ধরন | পূর্ববর্তী মূল্য (প্রতি লিটার) | বর্ধিত মূল্য (প্রতি লিটার) | বৃদ্ধির পরিমাণ (টাকা) |
| ডিজেল | ১০০ টাকা | ১১৫ টাকা | ১৫ টাকা |
| অকটেন | ১২০ টাকা | ১৪০ টাকা | ২০ টাকা |
| পেট্রল | ১১৬ টাকা | ১৩৫ টাকা | ১৯ টাকা |
| কেরোসিন | ১১২ টাকা | ১৩০ টাকা | ১৮ টাকা |
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে এই দাম সমন্বয় করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আমদানিকৃত জ্বালানির ব্যয়ভার সামলানো এবং বিপিসির লোকসান কমিয়ে আনতে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে।
সরকার ও বিপিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাম বাড়ার ফলে বাজারে যাতে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা সরবরাহে ঘাটতি না তৈরি হয়, সেজন্যই ডিপো পর্যায়ে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিজেলের জোগান নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নতুন নির্ধারিত এই বর্ধিত হারে তেল বিক্রির কার্যক্রম অবিলম্বে কার্যকর হবে। মাঠ পর্যায়ের তদারকি দলগুলো ডিপো এবং পাম্পগুলোতে তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে যাতে কেউ অবৈধভাবে তেল মজুত করতে না পারে। দেশের নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিশেষে, বিপিসি দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় তেলের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করতে ডিলার ও পরিবেশকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হবে না এবং গ্রাহকরা নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।