ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিভিন্ন স্থানে মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আমির আলি মিরজাফারি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কাঠামোর বরাত দিয়ে জানানো হয়, তাকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তেহরানের কোলহাক জামে মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে আমির আলি মিরজাফারির বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদন লাভ করে। অনুমোদনের পর মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমির আলি মিরজাফারি সরকারবিরোধী অস্থিরতার সময় বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। এর মধ্যে অগ্নিসংযোগ, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে সংগঠিত কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
একই সময় ইরানের পৃথক দুটি প্রদেশে আরও ২২ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও “শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা”র অভিযোগ আনা হয়। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি মামলার পৃথক সাজা ও দণ্ডকাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নিচে ঘটনাটির মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি |
আমির আলি মিরজাফারি |
| অভিযোগ |
মসজিদে অগ্নিসংযোগ, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা |
| সংশ্লিষ্ট স্থান |
তেহরানের কোলহাক জামে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থান |
| বিচারিক প্রক্রিয়া |
সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদনের পর রায় কার্যকর |
| শাস্তি |
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর |
| সময় |
মঙ্গলবার ভোর |
| অতিরিক্ত সাজাপ্রাপ্ত |
২২ জন ব্যক্তি |
| অতিরিক্ত অভিযোগ |
শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা |
| শাস্তির ধরন |
বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড |
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাগুলো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পৃথকভাবে সাজাপ্রাপ্ত ২২ জনের বিষয়ে বিস্তারিত নাম বা ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং প্রদত্ত সাজা বিভিন্ন প্রদেশের আদালতের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় বলে জানানো হয়।