বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় এক নারী পুকুরপাড়ের পাশের ঝোপের মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, নিহত রেহেনা আক্তার দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং গত বছর দেশে ফেরেন। প্রায় তিন বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে কারও প্রকাশ্য শত্রুতা বা বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
মরদেহ উদ্ধারের পরপরই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল দুটোই বাড়ছে, আর এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো গ্রাম।