খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে মেধাক্রম পরিবর্তন ও ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ভাইভা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বোর্ডের একজন বিশেষজ্ঞ সদস্য চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্বাক্ষর না করলেও পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ অনুমোদন পায়। ঘটনাটি গত বছর সম্পন্ন হলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
বাদ পড়া প্রার্থী এ সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ডক্টরাল ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন। একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ ও একটি গবেষণাগ্রন্থ রয়েছে তাঁর। তিনি এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উর্দু বিভাগে তিনটি প্রভাষক পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পদসংখ্যা বাড়িয়ে ছয়জন করার প্রস্তাব আসে। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ৪৩ জন প্রার্থী। নিয়ম অনুযায়ী, পদসংখ্যার তিনগুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে ১৮ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়।
মৌখিক পরীক্ষার পর বোর্ড প্রাথমিকভাবে ছয়জনের একটি মেধাক্রম তৈরি করে। তবে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তিনজন নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের সময়ই মেধাক্রমে পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানের প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের একজন অধ্যাপক, চূড়ান্ত তালিকায় এ পরিবর্তনের পর আপত্তি জানান এবং স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকেন। তবে প্রশাসনিকভাবে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ অনুমোদিত হয়।
| ধাপ | বিবরণ |
|---|---|
| নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | প্রথমে ৩টি প্রভাষক পদ |
| লিখিত পরীক্ষা | মোট ৪৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন |
| মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন | ১৮ জন প্রার্থী মনোনীত |
| প্রাথমিক মেধাক্রম | ৬ জনের তালিকা প্রস্তুত |
| চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত | ৩ জন নিয়োগের সিদ্ধান্ত |
| বিতর্কিত পরিবর্তন | ২য় স্থানের প্রার্থী বাদ, ৪র্থ স্থান অন্তর্ভুক্ত |
| অনুমোদন | সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ অনুমোদিত |
অভিযোগকারী প্রার্থী এ সালাম দাবি করেন, যোগ্যতা ও মেধাক্রম উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তিনি অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহ-উপাচার্য জানান, মেধাক্রম নির্ধারণে শুধু লিখিত ও মৌখিক ফল নয়, একাডেমিক যোগ্যতা, ডিগ্রি ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে বয়সসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তৎকালীন উপাচার্য দাবি করেন, বোর্ডের সকল সদস্য একমত না হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিয়ম হয়নি এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমান উপাচার্য জানান, বিষয়টি তার নজরে এলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে দেখা হবে।