খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে একটি পরিত্যক্ত বাগানের ভেতর মাটি খুঁড়ে তৈরি করা রহস্যময় সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি এই সুড়ঙ্গটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনচক্ষুর আড়ালে মাদক সেবন ও কেনাবেচার নিরাপদ আস্তানা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) স্থানীয় জনতা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সুড়ঙ্গটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন জমিদার বাড়ির পাশের একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ বাগানে এই সুড়ঙ্গটির অবস্থান ছিল। এর নির্মাণশৈলী ছিল বেশ চমকপ্রদ। মাটির নিচে বিশাল গর্ত খুঁড়ে ভেতরে চলাচলের জন্য সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছিল। সুড়ঙ্গের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে সেখানে মানুষের অবস্থানের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিছানা ও বালিশ পাওয়া গেছে।
সুড়ঙ্গটির উপরিভাগ বাঁশ এবং গাছের ডালপালা দিয়ে এমনভাবে ঢেকে রাখা হতো যে, সাধারণ পথচারীদের পক্ষে এর অস্তিত্ব বোঝা ছিল প্রায় অসম্ভব। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গটির ভেতরে অন্তত তিন থেকে চারজন ব্যক্তি অনায়াসেই অবস্থান করতে পারতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুজন সাহা নামের এক যুবক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এই সুড়ঙ্গটি তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে যাতায়াত করতেন এবং নিয়মিত আড্ডা দিতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসে যখন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
সুড়ঙ্গ সম্পর্কিত মূল তথ্য একনজরে:
| বিষয় | বিবরণ |
| স্থান | পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রাম, দালাল বাজার ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর সদর। |
| অবস্থান | পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশের একটি বাগান। |
| মূল হোতা | সুজন সাহা ও তাঁর সহযোগীরা। |
| ধারণক্ষমতা | এক সঙ্গে ৩-৪ জন অবস্থানযোগ্য। |
| ভেতরের আসবাব | বিছানা, বালিশ এবং যাতায়াতের জন্য সিঁড়ি। |
| ব্যবহৃত সুরক্ষা | বাঁশ ও গাছের ডালপালার তৈরি বিশেষ ঢাকনা। |
| অভিযোগের ধরন | মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা। |
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মাদক সেবনের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতেই নির্জন বাগানের মাটির নিচে এই সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। অভিযুক্ত সুজন সাহা মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
সুজন সাহার স্ত্রীর ভাষ্যমতে, তাঁর স্বামী সুড়ঙ্গটি তৈরি করেছিলেন ঠিকই, তবে সেখানে মাদক সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ড চলত কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুড়ঙ্গটির অস্তিত্ব শনাক্ত করে। এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগ এবং মাদকের বিস্তার রোধে জনস্বার্থে সুড়ঙ্গটি ভেঙে মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত তদারকি করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।