চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রচারণা সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ইতোমধ্যে সন্দেহাতীতভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি প্রশ্নফাঁসের প্রচারণাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া মন্তব্য করার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমালোচনা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী তার পোস্টে লেখেন, কথিত প্রশ্নফাঁসের প্রচারণাটি যে সম্পূর্ণ গুজব, তা ইতোমধ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপি কোনো ফ্যাক্টচেক ছাড়াই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তথ্যের ভিত্তিতে বিবৃতি দিয়েছে, যা নিন্দনীয় এবং গভীরভাবে হতাশাজনক।
এর আগে একই দিন দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। তারা পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকেই অর্থ প্রদান করেছেন বলেও তদন্তে জানা গেছে।
সিটিটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চক্রটি অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত যেকোনো গুজব বা প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের এসব বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের তথ্য প্রচার করা দায়িত্বশীল আচরণ নয় এবং এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ধরনের গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, একাধিক গ্রেপ্তার এবং শিক্ষা প্রশাসনের ব্যাখ্যার পর বিষয়টি গুজব ও প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।