খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই এপ্রিল ২০২৬, ৬:৩১ পিএম
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফুটবলাররা তাদের পূর্বের অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে এসে একটি মধ্যস্থতামূলক প্রস্তাব পেশ করেছেন। সম্প্রতি বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফুটবলারদের প্রতিনিধিদল সাফ কোটা পুরোপুরি বাতিলের পরিবর্তে ‘২+২’ ফরমুলা প্রবর্তন করার আবেদন জানিয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিটি ক্লাবে দুইজন সাফ অঞ্চলের ফুটবলার এবং দুইজন অন্যান্য বিদেশি ফুটবলার রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) অঞ্চলের পাঁচজন ফুটবলারকে ‘স্থানীয় খেলোয়াড়’ হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আরও তিনজন বিদেশি ফুটবলার একটি দলে খেলার সুযোগ পান। এই নিয়মের ফলে দেশীয় বা প্রকৃত স্থানীয় ফুটবলারদের একাদশে জায়গা পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে বলে দাবি খেলোয়াড়দের।
অন্যদিকে, ক্লাবগুলো এই নিয়মের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মূলত আর্থিক কারণে। তাদের মতে, দেশীয় মানসম্মত খেলোয়াড়দের আকাশচুম্বী পারিশ্রমিকের তুলনায় সাফের অন্য দেশগুলোর (যেমন: ভারত, মালদ্বীপ বা নেপাল) খেলোয়াড়দের অনেক কম খরচে দলে ভেড়ানো সম্ভব হয়। এই ত্রিভুজমুখী সংকটের সমাধানেই নতুন এই আলোচনার সূত্রপাত।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ জন ফুটবলারের একটি প্রতিনিধিদল বাফুফে কর্মকর্তাদের সাথে সভায় মিলিত হন। উল্লেখ্য যে, গত ১৫ এপ্রিল ফুটবলাররা সাফ কোটা বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে বাফুফেকে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তারা তাদের দাবিতে পরিবর্তন এনেছেন।
মামুনুল ইসলামের মতে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি মাথায় রেখে সাফ কোটা একেবারে বাতিল করা সমীচীন হবে না। তিনি ক্লাব এবং খেলোয়াড়—উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষার ওপর জোর দিয়ে নতুন প্রস্তাবটি পেশ করেন। যেখানে আগে ফুটবলাররা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্যাডে আবেদন করেছিলেন, এবার তারা ২০ জন ফুটবলারের স্বাক্ষর সংবলিত একটি সাদা কাগজে তাদের দাবি জমা দিয়েছেন।
নিচে বর্তমান নিয়মের সাথে ফুটবলারদের প্রস্তাবিত নিয়মের একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো:
| ক্যাটাগরি | বর্তমান নিয়ম (২০২৩-২৪ মৌসুম) | ফুটবলারদের প্রস্তাবিত নিয়ম |
| সাফ কোটা (স্থানীয় হিসেবে) | ৫ জন | ২ জন |
| সাধারণ বিদেশি কোটা | ৩ জন | ২ জন |
| মোট অ-দেশীয় খেলোয়াড় | ৮ জন | ৪ জন |
| মূল উদ্দেশ্য | ক্লাবের খরচ কমানো ও আঞ্চলিক সমন্বয়। | দেশীয় খেলোয়াড়দের সুযোগ বৃদ্ধি ও মান উন্নয়ন। |
সভায় বাফুফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম এবং সদস্য শাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া। সভায় উপস্থিত ২২ জন ফুটবলারের মধ্যে মোহামেডানের মেহেদি মিঠু, আবাহনীর ইব্রাহিম ও মিতুল মারমা এবং রহমতগঞ্জের মাহমুদুল হাসানের মতো জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রা ছিলেন।
বাফুফে প্রতিনিধিরা ফুটবলারদের এই ইতিবাচক ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, আলোচনার বিষয়বস্তু বাফুফে সভাপতিকে অবহিত করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভায় এটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ‘২+২’ প্রস্তাবটি গৃহীত হলে একদিকে যেমন আঞ্চলিক ফুটবলারদের সাথে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় উদীয়মান ফুটবলারদের জন্য মাঠের লড়াইয়ে টিকে থাকার পথও সুগম হবে।
এই আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের চলমান কোটা বিতর্ক একটি গঠনমূলক সমাধানের দিকে এগুচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বাফুফের পরবর্তী নির্বাহী সভায় ক্লাবগুলোর স্বার্থ এবং ফুটবলারদের এই নতুন প্রস্তাবের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হয়।
মন্তব্য