খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-র দাপ্তরিক তথ্য বা ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কার নাম থাকা উচিত, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বড় ধরনের পরিবর্তনের পর বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল নাকি সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম—কে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নিয়ে আইনি ও পদ্ধতিগত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিসিবির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও আইসিসি এবং এসিসির ওয়েবসাইটে এখনো বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলামের নাম ও ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালকে আইসিসি ও এসিসিতে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সাধারণত সদস্য দেশগুলোর বোর্ড প্রধানরাই পদাধিকারবলে এসব সংস্থার বোর্ড অব ডিরেক্টরস-এ অন্তর্ভুক্ত থাকেন। তবে আইসিসি ও এসিসির ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ না হওয়া এবং আমিনুল ইসলামের নাম বহাল থাকা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের বোর্ড প্রধান পরিবর্তিত হলে নতুন ব্যক্তিকে সরাসরি বোর্ড সভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যাকে বলা হয় ‘ইনডাকশন প্রসেস’। এই প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
শারীরিক উপস্থিতি: নতুন প্রতিনিধিকে আইসিসির সদর দপ্তর দুবাইয়ে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়।
নথিপত্র যাচাই: বিসিবি থেকে প্রাপ্ত মনোনয়নপত্র এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র আইসিসির লিগ্যাল বিভাগের কাছে জমা দিতে হয়।
আচরণবিধি স্বাক্ষর: আইসিসির পরিচালকদের জন্য নির্ধারিত শর্তাবলী ও আচরণবিধিতে নতুন সদস্যকে স্বাক্ষর করতে হয়।
ব্রিফিং সেশন: আইসিসির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ধারণা নিতে হয়।
এই পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দাপ্তরিকভাবে পূর্বতন সভাপতির নামই আইসিসির নথিতে সংরক্ষিত থাকে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতে, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী বোর্ড সভার আগেই তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তামিম ইকবালের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পদ্ধতিগত নয়, কিছু আইনি প্রশ্নও সামনে আসছে। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো দেশের বোর্ড প্রতিনিধিকে অবশ্যই একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে। বর্তমানে বিসিবি একটি সরকারি মনোনীত অ্যাডহক বা আহ্বায়ক কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আইসিসির নীতিমালায় ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ বা অনির্বাচিত কমিটির বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এক্ষেত্রে আইসিসি যদি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে বিশেষ বিবেচনায় না নেয়, তবে তামিম ইকবালের বোর্ড সদস্য পদ প্রাপ্তি বিলম্বিত হতে পারে।
আইসিসি ও এসিসির বোর্ড মেম্বার হওয়ার সাধারণ শর্তাবলী:
| বিষয় | বিবরণ |
| নির্বাচনী বৈধতা | প্রতিনিধিকে অবশ্যই নিজ দেশের বোর্ডের নির্বাচিত প্রধান হতে হবে। |
| সরকারি হস্তক্ষেপ | বোর্ডে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ থাকলে আইসিসি সদস্যপদ স্থগিত বা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। |
| মনোনয়ন | সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হতে হবে। |
| এসিসির নিয়ম | এসিসিতে পদ্ধতি তুলনামূলক সহজ; বোর্ড যাকে মনোনয়ন দেয় তিনি অংশ নিতে পারেন। |
সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম মনে করেন, তাঁর নাম ওয়েবসাইটে থাকার পেছনে পদ্ধতিগত এবং আইনগত—উভয় কারণ থাকতে পারে। তিনি আইসিসির সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বিসিবি বর্তমান প্রক্রিয়াকে কেবলই সময়ের ব্যাপার হিসেবে দেখছে। বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইনডাকশন প্রসেস শেষ হলেই এই বিভ্রান্তি কেটে যাবে।
আগামী ৩১ মে ভারতের আহমেদাবাদে আইপিএল ফাইনালের সময় আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে আইসিসি চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করতে পারে। যদি তামিম ইকবাল তার পূর্বেই ইনডাকশন প্রসেস সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং আইসিসি বর্তমান অ্যাডহক কমিটিকে স্বীকৃতি দেয়, তবেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। অন্যথায়, বিসিবিতে পরবর্তী নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ না আসা পর্যন্ত এই দাপ্তরিক জটিলতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।