খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ওঠানামার ফলে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ ভোক্তা, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক এবং প্রবাসীদের ওপর। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে অর্থ পাঠান বা বৈদেশিক লেনদেনে যুক্ত থাকেন, তাদের জন্য হালনাগাদ বিনিময় হার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ ক্রয় ও বিক্রয় হার নিচে উপস্থাপন করা হলো।
| মুদ্রার নাম | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.২৫ | ১২৩.২৫ |
| ইউরোপীয় ইউরো | ১৪১.৩৫ | ১৪৬.২২ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৩.৫৩ | ১৬৮.৬৬ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৬ | ০.৭৮ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৫.৪৯ | ৯৭.০৯ |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহাম | ৩৩.২৮ | ৩৩.৫৭ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৭.১৮ | ৮৯.১৭ |
| সুইস ফ্রাঁ | ১৫৩.৯৩ | ১৫৮.০৭ |
| সৌদি রিয়াল | ৩২.৫৮ | ৩২.৮৮ |
| চীনা ইউয়ান | ১৭.৮০ | ১৮.১৬ |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৯ | ১.৩১ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, বৈশ্বিক সুদের হার, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে মুদ্রার এই হার প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহও টাকার মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিত অর্থ পাঠানোর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা এই স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে আমদানিনির্ভর খাতে যেমন জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য, শিল্প কাঁচামাল ইত্যাদির দাম ডলারের বিনিময় হারের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। ফলে ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে হলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রেমিট্যান্স চ্যানেল আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং হঠাৎ ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার এই হালনাগাদ হার শুধু আর্থিক খাতের জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে।