খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
আগামী জুন মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। ঘরের মাঠে আয়োজিত এই বৈশ্বিক আসরকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ঘোষিত এই দলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ প্রতিভার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ পেসার ইসি ওং।
আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। এটি হতে যাচ্ছে সিভার-ব্রান্টের ক্যারিয়ারের সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ফর্ম দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে অফ-স্পিনার চার্লি ডিনের ওপর। গত কয়েক বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ডিনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করেছে।
অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্টের সাথে দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে রয়েছেন হিদার নাইট ও ড্যানি ওয়াট-হজ। হিদার নাইটের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড এর আগে বড় আসরগুলোতে দারুণ সাফল্য পেয়েছে, এবার তিনি অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে স্কোয়াডে ভূমিকা রাখবেন। অন্যদিকে, ওপেনিং পজিশনে দলের অন্যতম ভরসা ড্যানি ওয়াট-হজ তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে ইনিংস শুরু করবেন।
স্বাগতিকদের এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০ বছর বয়সী পেসার ইসি ওংকে। ঘরোয়া লিগ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে গতির ঝড় তুলে তিনি নির্বাচকদের নজর কেড়েছিলেন। তবে দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে ১৮ বছর বয়সী লেগ-স্পিনার টিলি কোর্টিন-কলম্যানের। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে উঠে আসা এই তরুণ তুর্কি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন। সরাসরি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তাঁকে সুযোগ দেওয়া ইংল্যান্ডের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া অলরাউন্ডার ফ্রেয়া কেম্প এবং ব্যাটার অ্যালিস ক্যাপসির মতো তরুণ ক্রিকেটাররা স্কোয়াডের ভারসাম্য রক্ষা করছেন। লরেন বেল এবং লরেন ফাইলারের অন্তর্ভুক্তি দলের পেস আক্রমণকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। স্পিন বিভাগে সোফি একলস্টোনের মতো বিশ্বসেরা বোলার ইংল্যান্ডের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করবেন, যাঁকে সঙ্গ দেবেন লিনসি স্মিথ এবং চার্লি ডিন।
ইংল্যান্ড দলের এই বিশ্বকাপ মিশনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে তাদের প্রধান কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে স্বাগতিক দলকে শিরোপা জেতানো অধিনায়ক ছিলেন এই শার্লট এডওয়ার্ডস। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এডওয়ার্ডস এবার ডাগ-আউটে বসে পরিকল্পনা সাজাবেন। তাঁর কোচিংয়ে ইংল্যান্ড দল নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশনে শার্লট এডওয়ার্ডসের রণকৌশল দলটিকে বাড়তি সুবিধা প্রদান করবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের অভিমত।
বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ইংল্যান্ড স্কোয়াড নিম্নরূপ:
| ক্রিকেটার | ভূমিকা |
| ন্যাট সিভার-ব্রান্ট (অধিনায়ক) | অলরাউন্ডার |
| চার্লি ডিন (সহ-অধিনায়ক) | অফ-স্পিনার |
| হিদার নাইট | ব্যাটার |
| ড্যানি ওয়াট-হজ | ব্যাটার |
| সোফি একলস্টোন | স্পিনার |
| অ্যামি জোন্স | উইকেটরক্ষক ব্যাটার |
| অ্যালিস ক্যাপসি | অলরাউন্ডার |
| সোফিয়া ডাঙ্কলি | ব্যাটার |
| লরেন বেল | পেসার |
| লরেন ফাইলার | পেসার |
| ড্যানি গিবসন | অলরাউন্ডার |
| ফ্রেয়া কেম্প | অলরাউন্ডার |
| লিনসি স্মিথ | স্পিনার |
| ইসি ওং | পেসার |
| টিলি কোর্টিন-কলম্যান | স্পিনার |
২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি ইংল্যান্ডের জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় সমর্থকদের বিপুল প্রত্যাশা যেমন রয়েছে, তেমনি কন্ডিশনের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চাপও রয়েছে। ইংল্যান্ডের আগে অন্য কোনো দেশ এখনও তাদের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেনি। বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগে স্কোয়াড ঘোষণা করার মাধ্যমে ইসিবি তাদের ক্রিকেটারদের মানসিক প্রস্তুতি এবং অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করতে চেয়েছে। বর্তমান রানার্স-আপ কিংবা ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে প্রবেশ করতে যাওয়া ইংল্যান্ড দল এবার শার্লট এডওয়ার্ডস ও ন্যাট সিভার-ব্রান্টের যুগলবন্দীতে শিরোপা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর।