ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষই একে অপরকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক হামলার পথে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানা হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর নতুন করে ধারাবাহিক হামলার পরিকল্পনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য হবে তেহরানকে চাপের মুখে এনে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। এক পর্যায়ে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে পরে কিছুটা কমলেও বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ইরান এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব দাবি করেছে, বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ থেকে এই জলপথ রক্ষা করা হবে।
সামরিক হুমকি ও পাল্টা অবস্থান
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সীমিত হামলাও চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক পর্যায়ে সামরিক পরিকল্পনা, নৌ অবরোধ জোরদার করা এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
প্রধান পক্ষগুলোর অবস্থান
| পক্ষ |
অবস্থান |
প্রধান বক্তব্য |
| ইরান |
কঠোর প্রতিরোধ |
মার্কিন হামলায় দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা আঘাত |
| যুক্তরাষ্ট্র |
সামরিক চাপ ও অবরোধ |
ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করার চেষ্টা |
| ইসরায়েল |
আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমর্থন |
ইরানের সামরিক সক্ষমতা রোধ |
| জাতিসংঘ |
উদ্বেগ ও সতর্কতা |
অর্থনীতি ও মানবিক সংকট বাড়ার আশঙ্কা |
| পাকিস্তান |
মধ্যস্থতার চেষ্টা |
দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান |
অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
জাতিসংঘ মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে এবং কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি নির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতি এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা
যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও কোনো স্থায়ী সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।