খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
ইউরোপীয় ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মুখোমুখি হওয়ার আগে ঘরোয়া লিগে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বুন্দেসলিগায় ইতিমধ্যে চার ম্যাচ হাতে রেখেই ৩৫তম শিরোপা নিশ্চিত করা বায়ার্ন মিউনিখ শনিবার টেবিলের তলানিতে থাকা দল হেইডেনহেইমের বিপক্ষে হারতে হারতে ড্র করেছে। অ্যালিয়েঞ্জ এরেনাতে পিএসজির বিপক্ষে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে তলানির দলের বিরুদ্ধে এই পারফরম্যান্স বায়ার্ন শিবিরের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিন মাঠে নামার আগে বায়ার্ন মিউনিখ তাদের বেশ কয়েকজন নিয়মিত ও প্রভাবশালী ফুটবলারকে বিশ্রামে রেখেছিল। বিশেষ করে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার এবং হ্যারি কেইনের মতো তারকা স্ট্রাইকারের অনুপস্থিতি মাঠে স্পষ্ট অনুভূত হয়েছে। দলের মূল স্তম্ভদের ছাড়া খেলতে নেমে রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগ—উভয় ক্ষেত্রেই খেই হারিয়ে ফেলে ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বায়ার্নের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় হেইডেনহেইম। ম্যাচের ২২তম মিনিটে বুদু জিভজিভাজের দারুণ এক ভলিতে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। বায়ার্ন সেই গোল হজম করার পর গুছিয়ে ওঠার আগেই ৯ মিনিটের মাথায় এরেন ডিঙ্কি দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। আধঘণ্টার মধ্যে দুই গোল হজম করে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ইতিমধ্যে লিগ জয়ী বায়ার্ন।
ম্যাচের প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ ৪৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে ব্যবধান কমান বায়ার্নের লিওন গোরেৎকা। বিরতির পর বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি দলে চারটি পরিবর্তন আনেন। এই পরিবর্তনের সুফল আসে ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে, যখন গোরেৎকা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে স্কোর ৩-৩ সমতায় ফেরান।
তবে সমতা ফিরলেও ম্যাচে হেইডেনহেইমের দাপট কমেনি। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে বুদু জিভজিভাজে তার দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করে ফের হেইডেনহেইমকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই গোলের পর বায়ার্ন মিউনিখের সামনে হারের লজ্জা এড়ানোই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। হেইডেনহেইম যখন একটি ঐতিহাসিক জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমের শেষ সেকেন্ডে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। বায়ার্নের অলিসের একটি শট গোলপোস্টে লেগে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় দিয়ান্ত রামাজের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে জড়ায়। এর ফলে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর বায়ার্নের জন্য পিএসজির বিপক্ষে ফিরতি লেগটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ এরেনাতে সেই পরীক্ষার আগে হেইডেনহেইমের মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল দলটির। কিন্তু জয় না পাওয়ায় এবং ৩টি গোল হজম করায় বায়ার্নের রক্ষণভাগ নিয়ে নতুন করে চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে।
বুন্দেসলিগার শিরোপা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় মঞ্চে নামার আগে এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, হেইডেনহেইম জয় না পেলেও লিগ চ্যাম্পিয়নদের জালে ৩ গোল দিয়ে এবং পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে মাঠ ছেড়েছে, যা তাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক।
বায়ার্ন মিউনিখ এখন তাদের পূর্ণ মনোযোগ ফেরাতে চায় পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ লড়াইয়ে। গত সপ্তাহের হার এবং আজকের হোঁচট কাটিয়ে উঠে মানুয়েল নয়ার ও হ্যারি কেইনের প্রত্যাবর্তনে দলটি আবারও শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রত্যাশা করছে। তবে তলানির দলের বিরুদ্ধে এই ৩-৩ ব্যবধানের ড্র বায়ার্নের ডাগআউটে ভিনসেন্ট কোম্পানির জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পিএসজির মতো শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে রক্ষণকে কতটা সুসংহত করতে পারে বায়ার্ন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সংবাদটি মার্জিত ভাষায় এবং তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখন করা হয়েছে। এতে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত আবেগ বা কাল্পনিক তথ্য যোগ করা হয়নি।