খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
বাংলার ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যেগুলো কেবল ব্যক্তি নয়—একটি চেতনা, একটি আলোকধারা। জাহানারা ইমাম তেমনই এক দীপ্তিমান নাম। তিনি ছিলেন লেখিকা, শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক—আর সর্বোপরি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অদম্য প্রতিবাদের প্রতীক।
তাঁর অমর সৃষ্টি একাত্তরের দিনগুলি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত দলিল। এই বই শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং একটি জাতির বেদনা, সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য সাক্ষ্য।
১৯৭১-এর সেই উত্তাল দিনে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুমী, দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রাখেন। একাধিক সফল গেরিলা অভিযানের পর তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্মম নির্যাতনের পর শহীদ হন। সন্তানের এই আত্মত্যাগকে তিনি ব্যক্তিগত শোক হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি—বরং তা রূপ নিয়েছিল জাতির জন্য সংগ্রামের শক্তিতে।
স্বাধীনতার পর রুমীর সহযোদ্ধারা তাঁকে “সকল শহীদের মা” হিসেবে বরণ করে নেয়। সেই থেকেই তিনি আমাদের প্রিয় “শহীদ জননী”।
১৯২৯ সালের ৩ মে, মুর্শিদাবাদের এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন প্রগতিশীল চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধে। শিক্ষা জীবনে তিনি ছিলেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর—কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে স্নাতক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন।
শিক্ষকতা ছিল তাঁর প্রথম ভালোবাসা। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা—বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে জ্ঞান বিতরণ করেছেন, গড়ে তুলেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়—একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিচারের দাবিতে তাঁর নেতৃত্ব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো—নির্ভীক, আপসহীন।
১৯৯৪ সালের ২৬ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর সাহস, তাঁর আলোকবর্তিকা—আজও আমাদের পথ দেখায়।
আপনি ছিলেন বলেই অন্ধকারেও আমরা আলো খুঁজে পেয়েছি।
আজও সেই আলোয় পথ চলার শক্তি খুঁজি।
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও চিরকৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি আপনাকে।