আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী সরকারি যানবাহন ব্যবস্থার দুরবস্থার ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাসা থেকে আদালতে আসার পথে সরকারি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে তাকে পথে পুলিশের গাড়িতে করে ট্রাইব্যুনালে আসতে হয়েছে বলে তিনি নিজেই এজলাসে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সোমবার (৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-২-এর এজলাসে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এদিন নির্ধারিত সময়ে এজলাসে উপস্থিত হন। তবে বিচার কার্যক্রম শুরুর আগেই তিনি উপস্থিত চিফ প্রসিকিউটরসহ আইনজীবীদের উদ্দেশে সরকারি অবকাঠামো ও যানবাহন ব্যবস্থার দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাসা থেকে আসার পথে সরকারি গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে পুলিশের গাড়িতে করে আসতে হয়েছে। এভাবে চলতে পারে না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে হয় হেঁটে আসতে হবে, নয়তো ঠেলাগাড়িতে করে আদালতে আসতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় আদালতে উপস্থিত প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের এজলাসে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, যা বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামও এসব সমস্যার বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভবন ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল থাকায় বিচারক, আইনজীবী ও উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিচে আদালত সংশ্লিষ্ট প্রধান সমস্যাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সমস্যা |
বর্তমান অবস্থা |
প্রভাব |
| সরকারি গাড়ি বিকল |
নিয়মিত ব্যবহার অনুপযোগী |
বিচার কার্যক্রমে যাতায়াতে অসুবিধা |
| শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা |
দীর্ঘদিন অকেজো |
গরমে আদালত পরিচালনা কষ্টকর |
| পুরোনো ভবনের অবকাঠামো |
জরাজীর্ণ ও রক্ষণাবেক্ষণহীন |
নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিঘ্ন |
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর এ মন্তব্যের পর আদালত সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে মৌলিক সুবিধার অভাব দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে বিচার কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালিত হতে পারে।
এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীরা মনে করেন, বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা শুধু আইন ও প্রক্রিয়ার ওপর নয়, বরং অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সহায়তার ওপরও অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে বিচার কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।