খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনালে বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে হায়দরাবাদ কিংসের ব্যাটিং লাইনআপ। লাহোরে অনুষ্ঠিত এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন নাহিদ। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের ওপর ভর করে হায়দরাবাদকে অল্প রানে আটকে দেয় পেশোয়ার জালমি। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটের জয় নিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর পর পিএসএল শিরোপা ঘরে তুলল বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দলটি।
ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় হায়দরাবাদ কিংস। শুরুটা ঝোড়ো গতিতে হলেও পেশোয়ারের বোলারদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবার বল হাতে নেন নাহিদ রানা। শুরুর ওভারে ১৩ রান দিলেও দ্রুতই নিজেকে সামলে নেন তিনি। নাহিদ তাঁর দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই অজি তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। ম্যাক্সওয়েল কোনো রান না করেই শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।
নিজের তৃতীয় স্পেলে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন নাহিদ। ১৪তম ওভারে তিনি কোনো রান না দিয়ে একটি মেডেন উইকেট লাভ করেন। ওই ওভারের পঞ্চম বলে হুনাইন শাহকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। সামগ্রিকভাবে ৪ ওভারে মাত্র ৫.৫০ ইকোনমি রেটে ২২ রান খরচ করে ২ উইকেট শিকার করেন এই বাংলাদেশি গতিদানব।
পেশোয়ার জালমির বোলারদের তোপে হায়দরাবাদের কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। উসমান খান ও ইরফান খানের বিদায়ের পর দলটি চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। নাহিদ রানার গতি এবং অ্যারন হার্ডির পেস আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে তাদের মিডল অর্ডার। এক পর্যায়ে ৭৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে হায়দরাবাদ। শেষ পর্যন্ত সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৯ রানে থামে তাদের ইনিংস।
১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল পেশোয়ার জালমি। ৪০ রান তুলতেই তারা হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। তবে পঞ্চম উইকেটে অ্যারন হার্ডি ও আবদুল সামাদ ৮৫ রানের এক অনবদ্য জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। আবদুল সামাদ ৩৪ বলে ৪৮ রান করে আউট হলেও, অ্যারন হার্ডি ৩৯ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বল হাতে ৪ উইকেট ও ব্যাট হাতে ৫৬ রানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচের নায়ক হন হার্ডি। পেশোয়ার জালমি ২৯ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৯ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পিএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল তারা।
| ক্যাটাগরি | তথ্য/স্কোর |
| বিপক্ষ দলসমূহ | পেশোয়ার জালমি বনাম হায়দরাবাদ কিংস |
| হায়দরাবাদ কিংসের স্কোর | ১২৯/১০ (১৮.৪ ওভার) |
| পেশোয়ার জালমির স্কোর | ১৩০/৫ (১৫.১ ওভার) |
| ফলাফল | পেশোয়ার জালমি ৫ উইকেটে জয়ী |
| নাহিদ রানার বোলিং ফিগার | ৪-১-২২-২ |
| অ্যারন হার্ডির অবদান | ৫৬* রান ও ৪ উইকেট (২৭ রানে) |
| আবদুল সামাদের অবদান | ৪৮ রান (৩৪ বল) |
| শিরোপা জয়ের ব্যবধান | ৯ বছর পর দ্বিতীয় শিরোপা |
নাহিদ রানার এই পারফরম্যান্স কেবল পেশোয়ার জালমির জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি বড় ইতিবাচক দিক। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ফাইনালে এমন চাপের মুখে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে রাখলেন। পেশোয়ারের এই জয়ে তাঁর কিপটে বোলিং ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট শিকার প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।