খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার এক যুবকের বস্তাবন্দি ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাটখোলা গ্রামের বটতলা এলাকা থেকে পুলিশ এই মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত যুবকের নাম রবিউল ইসলাম (৩৫)। তিনি মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের গোলাম সারোয়ারের ছেলে এবং পেশায় একজন পাওয়ার টিলার চালক ছিলেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস হাটখোলা গ্রামের বটতলা এলাকার একটি নির্জন স্থানে এসে থামে। গাড়িটি থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা দ্রুত রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করেন। দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টাকালে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায়।
গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে এর ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রামবাসী ধাওয়া করে শাহজাদা ও তপু সাহা নামে দুই যুবককে আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যান। এরপর স্থানীয়রা পরিত্যক্ত বস্তার মুখ খুলে ভেতরে একজন যুবকের গলাকাটা ও রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
নিহত রবিউল ইসলাম তার নিজ এলাকায় একজন পরিশ্রমী চালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় আটক হওয়া দুই ব্যক্তির প্রাথমিক পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম | রবিউল ইসলাম (৩৫) |
| পিতার নাম | গোলাম সারোয়ার |
| স্থায়ী ঠিকানা | গ্রাম: সিন্দাইন, উপজেলা: মোহাম্মদপুর, জেলা: মাগুরা |
| পেশা | পাওয়ার টিলার চালক |
| আটককৃত ১ | শাহজাদা (গ্রাম: আন্দারকোঠা, বোয়ালমারী) |
| আটককৃত ২ | তপু সাহা (পিতা: পঙ্কজ সাহা, বোয়ালমারী) |
| ঘটনার স্থান | হাটখোলা গ্রামের বটতলা এলাকা, বোয়ালমারী |
| উদ্ধারের তারিখ ও সময় | ৫ এপ্রিল, রাত ৮:০০ টা |
নিহতের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে রবিউল ইসলাম তার প্রতিবেশী হাফেজ মোল্যার ছেলে শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলা গ্রামে শাহিদুলের জামাতার বাড়িতে যান। নিহতের মামা মুশা মোল্যার ভাষ্যমতে, একটি মোটরসাইকেল পাওনাকে কেন্দ্র করে শাহিদুলের জামাতা শহিদুল হকের সঙ্গে রবিউলের কথা কাটাকাটি ও বিবাদ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শাহিদুল রবিউলকে সেখানে রেখে একা চলে আসেন। এরপর থেকেই রবিউল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল এবং তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে শাহিদুল ইসলাম এবং তার জামাতা শহিদুল হক পলাতক রয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পাওনা আদায় বা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, আটক দুই যুবককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর মালিকানা ও চালকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।