খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করেছেন অথচ কোলিনাকে চিনেনা এমন ফুটবলপ্রেমী পাওয়া দুষ্কর। পুরো নাম পিয়েরলুইজি কোলিনা। নাম টা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ফুটবল মাঠে মুণ্ডিত মস্তক আর নীল চোখের রাগী এক রেফাররির কথা। যিনি পরিচালনা করেছিলেন গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত টুর্নামেন্টের সেই আসরের ফাইনাল ম্যাচ।
অসাধারণ রেফারি হিসেবে বেশ সুনাম ছিল কোলিনার। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩—টানা ছয় বছর ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাস্টিকসের ‘বিশ্বসেরা রেফারির’ খেতাব জিতেছেন। নিখুঁত আর নির্ভুল রেফারিংয়ের জন্য যেমন সুনাম ছিল কোলিনার, তেমনি তাঁকে সবাই চিনতেন কঠোর এক রেফারি হিসেবেও। পান থেকে চুন খসলেই খেলোয়াড়দের হলুদ কার্ডের শাস্তি দিতেন।
সেই কোলিনাই কিনা ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করতে গিয়ে অদ্ভুত এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন। সম্প্রতি সেই বিষয়ে লা রিপাবলিকা পত্রিকায় কথা বলেছেন সাবেক ইতালিয়ান রেফারি ।
জার্মানিকে ২–০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা সেই ম্যাচ নিয়ে কোলিনা বলেছেন, ‘আমার কাছে এমন একটি সংগ্রহ আছে, যেটা শুনলে ফুটবল জাদুঘর হিংসা করবে। আর সেটি হলো ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই বল।
লম্বা রেফারিং ক্যারিয়ারে অনেক স্মারকই হয়তো জমিয়েছেন কোলিনা; কিন্তু এটা যে তাঁর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান, সেটা কোলিনার কথায়ই স্পষ্ট।
বলটি যেন তিনি সহজেই নিজের আয়ত্তে নিতে পারেন, এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়েই দেরিতে খেলা সমাপ্তির বাঁশি বাজাতে হয়েছিল কোলিনাকে। সাক্ষাৎকারে কোলিনা বলেন, সেদিন আমি হয়তো ১৩ বা ১৪ সেকেন্ড পর (শেষ) বাঁশি বাজিয়েছি, এটা ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি। আমি শুধু নিশ্চিত করতে চেয়েছি, বলটি যেন আমার হাতে আসে। আর আমি সেটা বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি।’
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীতে বলটি নিয়ে কী হয়েছিল, সেই বর্ণনাও দিয়েছেন কোলিনা, ‘পুরস্কার বিতরণীতে আমি পদক আনতে যাওয়ার আগে সংগঠকদের একজন বলেছিল, “পিয়েরলুইজি বলটি আমার কাছে রেখে যাও, পরে নিয়ে যেও।’ আমি বলেছিলাম, কোনো সুযোগ নেই, বলটি আমার কাছেই থাকুক। অনুষ্ঠানের ছবিগুলোতে দেখবেন, সারাক্ষণই বলটি আমি হাতে রেখেছিলাম।’
খবরওয়ালা/টিএ