খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে, ২০২৬) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকা থেকে ৮,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় মাদকের ডিলার ও পাচারকারী হিসেবে সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, মানিকগঞ্জের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খন্দকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। পরিদর্শক মো. সুমনুর রহমানের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল সিংগাইর থানাধীন জয়মন্টপ গ্রাম পালপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকারী দলটি বিকেল প্রায় ৪:০০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের সেমিপাকা বসতঘরে প্রবেশ করে। তল্লাশিকালে ঘরের পশ্চিম পাশের কক্ষের ভেতর থাকা একটি ওয়ার্ডরোবের নিচের ড্রয়ারে বিশেষ কৌশলে কাপড়ের ভাঁজে লুকায়িত অবস্থায় ৮,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অপরাধে আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ দেলোয়ার নামক দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করে আসছিল। তাদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আনোয়ার হোসেন (৩৫): তিনি মৃত নকুমদ্দিন সিকদার ও মনোয়ারা বেগমের পুত্র। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানাধীন জয়মন্টপ পালপাড়া এলাকা (ওয়ার্ড নং-০৩, জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদ)।
২. মোহাম্মদ দেলোয়ার (৪০): তিনি মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত নুর বেগমের পুত্র। তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার জেলার সদর থানাধীন কক্সবাজার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের নুরপাড়া এলাকার এন্ডারসন রোডের ‘মালেক ম্যানসন’। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানাধীন জয়মন্টপ পালপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, গ্রেপ্তারকৃতরা অত্যন্ত ধূর্ত এবং সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য। তারা কক্সবাজার থেকে মানিকগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ইয়াবা পাচারের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। বিশেষ করে মোহাম্মদ দেলোয়ারের স্থায়ী নিবাস কক্সবাজারে হওয়ায় তিনি ইয়াবা সংগ্রহের মূল উৎস বা ডিলার হিসেবে কাজ করতেন এবং আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে তা সরবরাহ করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকার পর অবশেষে এই বিশাল চালানের তথ্য নিশ্চিত হয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার মাধ্যমে তারা মানিকগঞ্জ জেলার যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিল। উদ্ধারকৃত ৮,০০০ পিস ইয়াবার আনুমানিক আর্থিক মূল্য ২৪,০০,০০০ (চব্বিশ লক্ষ) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে সিংগাইর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জেলার মাদক নির্মূলে তাদের এ ধরণের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মানিকগঞ্জের মাদক সরবরাহের একটি বড় পথ সাময়িকভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।