খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মো. শওকত আলী (৩৬) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানের ছেলে। মরদেহটি সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাতে পদ্মা নদীর চর এলাকায় ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয় জেলেরা। পরে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে বিষয়টি স্বজনদের জানালে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান এবং পরে গোপনে দাফনের প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ৯ মে মো. শওকত আলী অন্য কয়েকজনের সঙ্গে গরু আনার উদ্দেশ্যে সীমান্তের ভারতীয় অংশের দিকে যান। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা ফিরে এলেও তিনি আর ফিরে আসেননি এবং তখন থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে গরু আনার সময় তিনি নিখোঁজ হন। পরে তার মরদেহ নদীতে ভেসে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গরু নিয়ে ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন এবং পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা আরও দাবি করেন, এর আগেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তে বিজিবির পক্ষ থেকে কাজ চলছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং নদীর চর এলাকায় ভেসে ছিল, যার কারণে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সময় ও কারণ নির্ধারণে জটিলতা রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে গবাদিপশু আনা-নেওয়ার সময় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে পদ্মা নদী ও সীমান্তবর্তী চর এলাকায় নিয়মিতভাবে এমন অনুপ্রবেশ ও পারাপারের ঘটনা ঘটে থাকে।
মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।