সিলেট টেস্টে আরেকটি বড় কীর্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত থেমে যেতে হয়েছে বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান লিটন দাসকে। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৬৯ রানের একটি দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেললেও সেঞ্চুরির স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে শতরান না পেলেও এই ম্যাচে তিনি এমন এক বিরল অর্জন গড়ে ফেলেছেন, যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে কেবল তার নামেই তিনবার লেখা হয়েছে।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে লিটন দাস খেলেছিলেন দারুণ এক ইনিংস, যেখানে তিনি ১২৬ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ছিলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, হয়তো একই টেস্টের দুই ইনিংসেই শতরান করার বিরল কীর্তি গড়বেন তিনি। এই অর্জনে পৌঁছাতে পারলে তিনি যোগ দিতেন মমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর পাশে, যারা আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত হাসান আলীর একটি ডেলিভারিতে ডিপ থার্ডম্যান অঞ্চলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে। ৬৯ রানে থেমে যায় তার ইনিংস। যদিও সেঞ্চুরি মিস হয়েছে, তবুও তিনি আরেকটি অসাধারণ মাইলফলক নিজের নামে লিখে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একই টেস্টে এক ইনিংসে সেঞ্চুরি এবং অন্য ইনিংসে ফিফটি করার ঘটনা এখন পর্যন্ত খুবই বিরল। এই কীর্তি মোট তিনবার ঘটেছে, আর আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিবারই সেটি করেছেন লিটন দাস। অর্থাৎ, এই বিশেষ রেকর্ডটি এককভাবে তার দখলেই রয়েছে।
লিটনের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে তিনি শুধু একজন উইকেটরক্ষক নন, বরং দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং স্তম্ভ। চাপের মধ্যে বড় ইনিংস খেলার সক্ষমতা তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
নিচের টেবিলে তার এই তিনটি অনন্য টেস্ট পারফরম্যান্স তুলে ধরা হলো—
| বছর |
প্রতিপক্ষ |
প্রথম ইনিংস |
দ্বিতীয় ইনিংস |
বিশেষ অর্জন |
| ২০২১ |
পাকিস্তান |
১১৪ রান |
৫৯ রান |
সেঞ্চুরি ও ফিফটি একই টেস্টে |
| ২০২২ |
শ্রীলঙ্কা |
১৪১ রান |
৫২ রান |
সেঞ্চুরি ও ফিফটি একই টেস্টে |
| ২০২৬ |
পাকিস্তান |
১২৬ রান |
৬৯ রান |
আবারও সেঞ্চুরি ও ফিফটির কাছাকাছি পারফরম্যান্স |
এই তিনটি ইনিংসই প্রমাণ করে যে বড় মঞ্চে লিটনের ব্যাট কতটা কার্যকর। প্রতিবারই তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, বিশেষ করে যখন দলের ব্যাটিং চাপের মধ্যে ছিল।
সিলেট টেস্টে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আবারও আলোচনা তৈরি করেছে যে তিনি বড় ইনিংস খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম কি না। যদিও এইবার দুই ইনিংসেই শতরান করা হয়নি, তবুও তার ব্যাটিং দৃঢ়তা ও শট নির্বাচনের দক্ষতা প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, সেঞ্চুরি না পেলেও লিটন দাস আবারও প্রমাণ করেছেন যে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নাম, যার ব্যাট থেকে আসা রান বারবারই নতুন রেকর্ডের জন্ম দিচ্ছে।