খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ ছয় দশক ধরে ইংল্যান্ড ফুটবল দল কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি। দীর্ঘ ৬০ বছরের এই শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্যে থ্রি লায়ন্স শিবিরের নতুন কোচ টমাস টুখেল একটি অভিনব মনস্তাত্ত্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় যদি ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে দলের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কর্মকর্তা—সবাইকে একটি বিশেষ স্মারক ট্যাটু করাতে হবে। টুখেলের এই অনন্য ‘ট্যাটু কৌশল’ দলগত সংহতি ও লক্ষ্য অর্জনের প্রতি সবাইকে একতাবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেবল মাঠের প্রধান একাদশই নয়, বরং ডাগআউটের কোচিং স্টাফ, পর্দার আড়ালের সাপোর্ট স্টাফ এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই ট্যাটু করানোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এমনকি ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ ক্যাম্পের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত স্পোর্টিং কানসাস সিটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) অ্যালান ডিট্রিখ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেক রিডও এই ঐতিহাসিক উদ্যাপনে শামিল হওয়ার সম্মতি জানিয়েছেন।
ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ পরামর্শক ও স্পোর্টিং কানসাস সিটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, ৬৪ বছর বয়সী অ্যালান ডিট্রিখ প্রথম এই পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেন। গত বছর ইংল্যান্ড দল যখন যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রস্তুতিমূলক সফরে গিয়েছিল, তখন টমাস টুখেল তাঁর এই মাস্টারপ্ল্যান অ্যালান ডিট্রিখ এবং জেক রিডের সঙ্গে ভাগ করে নেন। অ্যালান ডিট্রিখ সেই আলোচনার স্মৃতিচারণ করে জানান যে, টমাস টুখেল একজন অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপ্রবণ ও মার্জিত ব্যক্তিত্বের মানুষ। তিনি হঠাৎ করেই প্রস্তাব করেন যে দল বিশ্বজয় করলে সবাইকে ট্যাটু করাতে হবে এবং উপস্থিত পার্টনারদেরও এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। জীবনে কোনো দিন ট্যাটু না করানো সত্ত্বেও টুখেলের দৃঢ়তা দেখে ডিট্রিখ ও জেক রিড তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাবে রাজি হন।
বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবে এই ট্যাটুর নকশায় একটি সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফির পাশাপাশি ইংল্যান্ড ফুটবল দলের ঐতিহ্যবাহী বিশেষ প্রতীক যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অ্যালান ডিট্রিখ জানিয়েছেন, তিনি তাঁর হাতে এই স্মারক ট্যাটুটি করাবেন। ক্লাব ফুটবলে পূর্বেও খেলোয়াড়দের মধ্যে দলগতভাবে বা বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে ট্যাটু করানোর চল দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের দুই সতীর্থ মিলি ব্রাইট ও র্যাচেল ড্যালি নিজেদের গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে হাতে ‘১/২’ চিহ্নের ট্যাটু করিয়েছিলেন। তবে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পুরো স্কোয়াড ও কর্মকর্তা দল মিলে এমন গণ-ট্যাটু করানোর অঙ্গীকার ফুটবল ইতিহাসে বিরল।
নিচে থ্রি লায়ন্স শিবিরের এই বিশেষ ট্যাটু পরিকল্পনার আওতাভুক্ত ব্যক্তি ও নকশার বিবরণ একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| মূল পরিকল্পনাকারী | টমাস টুখেল (প্রধান কোচ, ইংল্যান্ড ফুটবল দল) |
| পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য | ফুটবলার ও স্টাফদের মধ্যে ঐক্য ও বিশ্বজয়ের অনুপ্রেরণা তৈরি করা |
| ট্যাটু করানোর শর্ত | আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হওয়া |
| আওতাভুক্ত ব্যক্তিবর্গ | মাঠের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ, এফএ-এর কর্মকর্তা এবং কানসাস সিটির পার্টনারবৃন্দ (যেমন: অ্যালান ডিট্রিখ ও জেক রিড) |
| ট্যাটুর সম্ভাব্য নকশা | সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফি এবং ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী বিশেষ প্রতীক |
ক্লাব ফুটবলে চেলসির হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জেতা টমাস টুখেল ফুটবলারদের মনস্তত্ত্ব ভালোভাবে বোঝেন। জাতীয় দলে সাধারণত বিভিন্ন বৈরী ক্লাবের (যেমন: আর্সেনাল, টটেনহাম, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা ম্যানচেস্টার সিটি) খেলোয়াড়রা একত্রিত হন। ফলে ড্রেসিংরুমের সেই ক্লাবভিত্তিক অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে একটি পারিবারিক আবহ তৈরি করাই টুখেলের মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি কিটম্যান থেকে শুরু করে হোটেলের কর্মী—সবাইকে এই মহাযজ্ঞের সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে চান। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশল মাঠের লড়াইয়ের আগেই দলের ঐক্যকে সুদৃঢ় করেছে।
আগত বিশ্বকাপে কানসাস সিটিতে ইংল্যান্ডের কোনো ম্যাচ নির্ধারিত না থাকলেও টুখেল তাঁর দলের মূল ঘাঁটি হিসেবে এই শহরটিকেই বেছে নিয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান, অত্যাধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নিরাপদ শহর হিসেবে কানসাস সিটির সুখ্যাতি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। থ্রি লায়ন্সরা মূলত সোয়োপ পার্কের মাঠে তাদের অনুশীলন কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যা পূর্বে চারবারের সুপার বলজয়ী দলের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানকার উন্নত মানের বারমুডা ঘাসের মাঠের সঙ্গে হ্যারি কেইনসহ দলের অন্য খেলোয়াড়েরা অভ্যস্ত হতে চান, কারণ বিশ্বকাপের মূল ভেন্যুগুলোতেও একই ধরনের ঘাসের মাঠ ব্যবহার করা হবে।