থাইল্যান্ড ফেরার পর বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার পিচ্চি রাজা
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ও একাধিক মামলার আসামি মো. রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখিত নয়) সন্ধ্যায় থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা রাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে নেমেই তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী ও শ্যালকও সঙ্গে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মো. রাজার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক, মাদক ও মারামারিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মামলার সংখ্যার মধ্যে রয়েছে তিনটি হত্যা মামলা, সাতটি হত্যা চেষ্টা মামলা, চারটি বিস্ফোরক মামলা, একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, একটি মারামারির মামলা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৩টি মামলা। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় সংগঠিত অপরাধ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত ছিল পিচ্চি রাজা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপের মুখে সে একাধিকবার আত্মগোপনে চলে যায় বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তার বিদেশে অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর তাকে নজরদারিতে রাখা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ নজরদারি ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিমানবন্দর এলাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
এডিসি জুয়েল রানা বলেন, পিচ্চি রাজা ও তার সহযোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশের পূর্ববর্তী রেকর্ড অনুযায়ী, এর আগেও ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই তালিকাভুক্ত বিভিন্ন অপরাধীকে নজরদারি ও আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।