খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একাডেমিক শৃঙ্খলা ও পরিবেশ পরিপন্থী অনৈতিক আচরণের অভিযোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০২৬ সালের ১৯ মে (মঙ্গলবার) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সূত্রের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানানো হয়। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শ্রেণিকক্ষে বসে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও চিত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। ভিডিওটিতে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন। ভিডিওটি ফেসবুকের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক গ্রুপ ও পেজে প্রকাশিত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবনের পবিত্রতা রক্ষা এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাৎক্ষণিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত দুই শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১ ব্যাচ) শিক্ষার্থী। নিচে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
| শিক্ষার্থীর নাম | বিভাগ | শিক্ষাবর্ষ | ব্যাচ | শাস্তির ধরন |
| উৎস দাস | আইন বিভাগ | ২০২৫-২৬ | ২১ | সাময়িক বহিষ্কার |
| স্নেহা সাহা | সমাজকর্ম বিভাগ | ২০২৫-২৬ | ২১ | সাময়িক বহিষ্কার |
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রইস উদ্দিন এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ, ঐতিহ্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডকে প্রশাসন কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ এবং প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রশাসন এই প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
একই বিষয়ে আইন বিভাগের ডিন খ্রিস্টিন রিচার্ডসন গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানান, শিক্ষার্থীদের নৈতিক মান উন্নয়ন ও উপযুক্ত একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অভিযুক্তদের এহেন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও জোরদার ও কঠোর করা হবে।