খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় গভীর রাতে নিজ শয়নকক্ষে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম রিতা রানী মজুমদার (৪৮)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা বিধান চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিতা রানী মজুমদার ও তার স্বামী বিধান চন্দ্র রায় মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যারা পড়াশোনার সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঘটনার দিন অর্থাৎ বুধবার রাত ১০টার দিকে স্বামী-স্ত্রী দুজন রাতের খাবার শেষ করেন। এরপর তারা প্রতিদিনের ন্যায় যার যার জন্য নির্ধারিত আলাদা ঘরে ঘুমাতে যান।
রাত সোয়া ১২টার দিকে বিধান চন্দ্র রায় তার নিজের ঘরের দরজায় প্রচণ্ড জোরে ধাক্কার শব্দ শুনতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার ঘুম ভেঙে যায়। একই সময়ে তিনি পাশের ঘর থেকে তার স্ত্রী রিতা রানীর অস্বাভাবিক গোঙানির শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস ধরে তিনি দ্রুত স্ত্রীর শয়নকক্ষে ছুটে যান।
বিধান চন্দ্র রায় স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করে মেঝেতে রিতা রানী মজুমদারের গলা কাটা ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশেপাশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে দেখতে পান যে বাড়ির সদর দরজাটি খোলা অবস্থায় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিল এবং হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সেই পথেই পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহটি উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং ঘটনার প্রাথমিক তথ্যাদি নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম | রিতা রানী মজুমদার (৪৮) |
| স্বামীর নাম | বিধান চন্দ্র রায় |
| ঘটনাস্থল | মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া, গাবতলী উপজেলা, বগুড়া |
| ঘটনার সময় | বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টা |
| সন্তানদের অবস্থান | এক ছেলে ও এক মেয়ে (পড়াশোনার কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন/অবস্থানরত) |
| প্রাথমিক আলামত | শয়নকক্ষের মেঝেতে গলাকাটা মরদেহ এবং বাড়ির খোলা সদর দরজা |
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) হুমায়ুন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ নিহতের শয়নকক্ষের মেঝে থেকে গলাকাটা অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে।