খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
আসন্ন আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গৌরবময় ও ইতিবাচক ফলাফল অর্জনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দেশের মাটি ছেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। গতকাল রবিবার দিবাগত গভীর রাতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে দলটির প্রথম বহর। প্রথম ধাপে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ১৩ জন সদস্য যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী ধাপে বাকি ১৩ জন সদস্য একই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন।
বিশ্বকাপের মূল পর্বের খেলা শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল সেখানে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং একটি বিশেষ ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। এই সফরটি তাদের বিদেশের কন্ডিশন বা আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। দেশ ছাড়ার পূর্বে গতকাল আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি জানান, তাঁরা নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিয়েই এবারের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছেন।
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি দলের সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আমাদের শেষ পর্যায়ের যে প্রস্তুতিটি সম্পন্ন হয়েছে, তা অত্যন্ত চমৎকার ছিল। আমরা সেখানে নিজেদের মধ্যে বেশ কিছু প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলেছি এবং অত্যন্ত নিবিড় অনুশীলন করেছি। আমি মনে করি, এই কঠোর অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক দক্ষতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব বা ভালো কার্যকারিতা তৈরি করতে পেরেছে।’
নিচে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সফরসূচি ও সদস্য কাঠামোর বিবরণ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| যাত্রার বিবরণ ও ধাপ | প্রথম বহরের সদস্য সংখ্যা | দ্বিতীয় বহরের সদস্য সংখ্যা | সফরের প্রাথমিক গন্তব্য | বিশ্বকাপের পূর্ববর্তী প্রতিপক্ষ |
| প্রথম ধাপ (রবিবার রাত) | ১৩ জন সদস্য | প্রযোজ্য নয় | লন্ডন, যুক্তরাজ্য | স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস |
| দ্বিতীয় বা শেষ ধাপ | প্রযোজ্য নয় | ১৩ জন সদস্য | লন্ডন, যুক্তরাজ্য | ত্রিদেশীয় সিরিজের দলসমূহ |
সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে কথা বলার সময় অধিনায়ক পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রস্তুতি গ্রহণের সময় তাঁদের একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং টি-টোয়েন্টি—উভয় সংস্করণের ক্রিকেটকেই সমানভাবে মাথায় রেখে নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করতে হয়েছিল।
নিগার সুলতানা জ্যোতি আরও বলেন, ‘যদিও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের চূড়ান্ত ফলাফল আমাদের অনুকূলে বা আমাদের পক্ষে আসেনি, তবুও সেই প্রতিযোগিতায় আমাদের দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত চমৎকার ও স্মরণীয় পারফরম্যান্স বা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছেন। এই ইতিবাচক দিকগুলো এবং ব্যক্তিগত সাফল্য আমাদের পুরো দলকে মানসিকভাবে অনেক বেশি উজ্জীবিত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, যা বিশ্বকাপে ভালো করতে সাহায্য করবে।’
নিচে শ্রীলঙ্কা সিরিজের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির তুলনামূলক চিত্র ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:
| প্রস্তুতির ক্ষেত্র ও স্থান | অনুশীলনের ধরণ ও মাধ্যম | পূর্ববর্তী সিরিজের ইতিবাচক দিক | ত্রিদেশীয় সিরিজের মূল গুরুত্ব |
| মিরপুর স্টেডিয়াম (ঢাকা) | নিবিড় অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচ | কয়েকজন খেলোয়াড়ের চমৎকার নৈপুণ্য | বিশ্বকাপের আগে দল যাচাইয়ের বড় সুযোগ |
| শ্রীলঙ্কা সফর (পূর্ববর্তী) | একদিনের ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণ | দলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করা | কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়া |
বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে স্কটল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলা প্রসঙ্গে নিগার সুলতানা জ্যোতি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এটিকে একটি অনন্য ও বড় সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অধিনায়কের মতে, আসন্ন বৈশ্বিক আসরে বা বিশ্বকাপে তাঁদের দল কতটা দক্ষতার সাথে লড়াই করতে পারবে, কোন কৌশলে ম্যাচ বা জয় ছিনিয়ে আনবে এবং কোন কোন জায়গায় আরও উন্নতি করতে হবে—তা বাস্তবসম্মতভাবে যাচাই করার জন্য এই ত্রিদেশীয় সিরিজটি একটি অত্যন্ত উপযুক্ত ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। সম্পূর্ণ দল এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মূল আসরে নিজেদের মেলে ধরতে মুখিয়ে আছে।