পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফোটার আগ থেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাত্রীরা স্টেশনে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বাড়তে থাকে মানুষের চাপ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
দক্ষিণাঞ্চল, চট্টগ্রাম ও সিলেটমুখী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভিড় করছেন বলে দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফেরার আনন্দে অনেকের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। শিশুদের মধ্যেও দেখা যায় বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস ও আনন্দ। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় তারা অধীর হয়ে আছে।
যাত্রীদের অনেকে জানিয়েছেন, সড়কপথের তুলনায় রেলপথ তাদের কাছে বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক মনে হয়। সুন্দরবন এক্সপ্রেসের এক যাত্রী জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঈদে বাড়ি ফিরতে পারা তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় এবং যাত্রা এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে। একই ট্রেনের আরেক যাত্রী আশরাফুল ইসলাম জানান, সড়কে দীর্ঘ যানজটের ঝামেলা এড়াতে তিনি আগে থেকেই আসন সংরক্ষণ করেছেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছেন।
স্টেশনে টিকিট সংগ্রহকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই দীর্ঘ সারির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে ও উৎসবের সময় এই চাপ আরও বেড়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে থেকেই যাত্রীরা কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন, ফলে ভোর থেকেই স্টেশনে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা ও ব্যস্ততা বিরাজ করে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় সব যাত্রীকে বসার আসন দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে নির্দিষ্ট অনুপাতে টিকিট বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে একটি অংশ যাত্রী বসে ভ্রমণ করেন এবং বাকি অংশ দাঁড়িয়ে যাত্রা সম্পন্ন করেন।
ঈদ উপলক্ষে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রিও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য কয়েকদিন আগেই অগ্রিম সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট দিনের টিকিট নির্দিষ্ট তারিখে পাওয়া যায়।
নিচে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রির সময়সূচি উপস্থাপন করা হলো—
যাত্রার তারিখ
টিকিট বিক্রির তারিখ
৩১ মে
২১ মে
১ জুন
২২ মে
২ জুন
২৩ মে
৩ জুন
২৪ মে
৪ জুন
২৫ মে
সব মিলিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এখন ঈদযাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যাত্রীদের চাপ, দীর্ঘ সারি এবং বাড়ি ফেরার আনন্দ—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে পুরো এলাকায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে এবং স্বস্তিতে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।