খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে বিদ্যমান আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধি উপেক্ষা করে নতুন নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই পদে আ কা মো. আশরাফুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে পরে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ওই প্রজ্ঞাপনটি পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দ্য কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪-এর আওতায় এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের ৫৪(৩) ধারা অনুযায়ী আ কা মো. আশরাফুজ্জামানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ সময় অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক রাখতে পারবেন না। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত আ কা মো. আশরাফুজ্জামান গতকালই যোগদানপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইডিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের সদস্য এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আশরাফী আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে, সর্বশেষ বোর্ড সভায় এমডি নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো এজেন্ডা ছিল না এবং এ বিষয়ে বোর্ডকে অবহিতও করা হয়নি।

তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের যোগ্যতা হিসেবে অভিজ্ঞতা বিভিন্ন শিল্প/সংস্থা/প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার উপর ন্যূনতম ২০ (বিশ) বছরের অভিজ্ঞতা যার মধ্যে মৌলিক পর্যায়ের ব্যবস্থাপক পদে (Key Managerial Position) কমপক্ষে ০৫ (পাঁচ) বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তার কোনোটাই তার নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইডিসিএলের পরিচালনা পর্ষদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সাত সদস্যের একটি কাঠামোতে পরিচালিত হয়। বোর্ডে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবও সদস্য হিসেবে থাকেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বর্তমানে সরকারি সফরে জেনেভায় অবস্থান করছেন এবং তাদের ১ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইডিসিএলের এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে বোর্ড সভায় প্রস্তাব অনুমোদন হয়, এরপর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে এবারের ক্ষেত্রে সেই ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইডিসিএলের এমডি হিসেবে সামাদ মৃধাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগও বোর্ড সভার অনুমোদনের ভিত্তিতে এবং কোম্পানি আইনের নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছিল বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসনিক অস্থিরতার অভিযোগও সামনে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার ইডিসিএল কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বহিরাগতদের উপস্থিতিতে তৎকালীন এমডি সামাদ মৃধাসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের কার্যালয় থেকে বের করে আনা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসার পরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা অবগত নন।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ইডিসিএলের মতো একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।