খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি: ছুটির দিন হলেও আজ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশের বইমেলায় ছিল না শিশু প্রহর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য বইমেলায় শিশুপ্রহর বাদ দেওয়া হয়েছিল। সে কারণের মেলার দ্বার খুলেছিল বেলা দুইটায়। তবে বিলম্বে মেলা শুরু হলেও ছুটির দিনের ভিড় ছিল যথারীতি। বেলা সন্ধ্যার আগেই মেলার মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
আজ লোকসমাগম যেমন হয়েছে প্রচুর তেমনি বিক্রিও অনেকটা বেড়েছে। এতে প্রকাশকেরা স্বস্তি পেয়েছেন। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পয়লা বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসেও ভালো বিক্রি হয়েছে। গত দুই দিনের বিক্রিতে বই মেলায় বিক্রির খরা বেশ কেটেছে।
সূচীপত্র প্রকাশনীর প্রকাশক সাঈদ বারী, অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা, অনুপম প্রকাশনী প্রকাশ মিলন নাথসহ অনেকেই বললেন গত দুই দিন থেকে যেমন বিক্রি হচ্ছে এটা তাদের আশাবাদী করেছে। মেলার বাকি দিনগুলোতে বিক্রির এই ধরা অব্যাহত থাকলে বেচাবিক্রি নিয়ে প্রকাশকেরা সন্তুষ্ট হতে পারবেন এমনটাই আশা করছেন।
নতুন এসেছে ১৭৫টি
তথ্যকেন্দ্রে নতুন বইয়ের নাম এসেছে ১৭৫টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে বাংলা একাডেমি এনেছে বিশ্বজিৎ ঘোষ ও মোবারক হোসেন সম্পাদিত গবেষণাগ্রন্থ একুশের সাহিত্য: উপন্যাস।
পাঠক সমাবেশ এনেছে বেগম রোকেয়ার প্রয়াণের পরে তাকে নিয়ে তৎকালীন পত্রপত্রিকায় যে-সব রিপোর্ট, নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল সেসব নিয়ে আবুল আহসান চৌধুরীর সংকলন-সম্পাদনা ও ভূমিকায় রোকেয়া প্রয়াণ লেখা,আফছার ব্রাদার্স এনেছে হাসান হাফিজের ছড়া চল গাঁয়ে যাই?যাবি, বিদ্যা প্রাকাশ এনেছে মঈন আহমেদের উপন্যাস নি:শব্দ জ্যোৎস্নার ভেতর, বেঙ্গল বুকস এনেছে পিয়াস মজিদের কবিতা রূপকথার রাস্তাঘাট, শব্দ চাষ এনেছে ড.শফিক আফতাবের প্রবন্ধ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কথাসাহিত্য: বিষয়বৈচিত্র্য ও শিল্পলোক, সূচিপত্র এনেছে মোহাম্মদ আবদুল হাই সম্পাদিত বাঙালি মুসলমান: আত্মঅন্বেষণ, পাঞ্জেরী এনেছে দন্ত্যস রওশনের শিশুতোষ গল্প ফটাস, আবিষ্কার এনেছে সঞ্জিত মণ্ডলের বিজ্ঞান বিষয়ক বেসিক টু অ্যাডভান্সড রোবটিক্স,গ্রন্থিক এনেছে মানস চৌধুরীর প্রবন্ধ সিনেমা টিনেমা, শোভা প্রকাশ এনেছে সাখাওয়াত মজুমদার অনূদিত শর্মিলা বসুর ডেড রেকনিং: ১৯৭১এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। জরিনা আখতারের নির্বাচিত কবিতা এনেছে নবান্ন, সারওয়ার-উল-ইসলামের গল্প, জন্মদিনের উপহার এনেছে শৈশব প্রকাশ, আন্দালিব রাশদীর উপন্যাস বিড়াল এনেছে নাগরী।
মেলামঞ্চের অনুষ্ঠান
প্রাবন্ধিক বলেন, কবি, মনীষী সৈয়দ আলী আহসান আমাদের দেশ, জাতি ও ভাষার একজন সেরা পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব। তিনি একই সঙ্গে কবি ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে দেশ ও দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মান অর্জন করেছেন। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর বিচরণ ছিল অবাধ। শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্য ও শিল্প সমালোচক হিসেবে অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি। আধুনিক বাংলা কবিতায় ভাষা ও ভাবের স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টিতে সৈয়দ আলী আহসান পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। কবিতার ভেতর দিয়েই যখন তিনি এই পৃথিবীকে জেনেছেন, তখনই হয়েছে তাঁর প্রকৃত চেনা ও একান্ত জানা। তাঁর অধিকাংশ কবিতার গঠন ও শব্দযোজনা এমনই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যে, সেগুলোকে অন্য কারও রচনা বলে ভুল করবার কোনো অবকাশ নেই।
আলোচকদ্বয় বলেন, সৈয়দ আলী আহসানের কর্মপরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। বাংলা গদ্যে ও কবিতায় নিজস্ব সৃষ্টিশীলতার ছাপ রেখেছিলেন তিনি। সাহিত্যের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেদিকে তিনি দৃষ্টিপাত করেননি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সমালোচনা—সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের সংযোগকে পরিপূর্ণতা দিয়েছিলেন সৈয়দ আলী আহসান। তাঁর অনুপম জীবন ও কর্ম নতুনভাবে জাতিকে জাগিয়ে তোলার প্রেরণা হতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে আবদুল হাই শিকদার বলেন, সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন বহুমাত্রিক বহুবর্ণিল প্রতিভা। তিনি একইসঙ্গে ঐতিহ্য সচেতন এবং আধুনিক। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনার অর্থই হলো কল্যাণ ও মঙ্গলের দিকে অগ্রযাত্রা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি তারিফ রহমান, কবি জাহিদ হায়দার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সায়েরা হাবীব, শারমিন জুঁই ও শাহনাজ পারভীন লিপি। আজ ছিল মো. শহিদুল্লাহ্’র পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শহীদ শিল্পীগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক একাডেমি’ এবং চৈতী পারভীনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিল্পবৃত্ত’—এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফারজানা আক্তার পপি, সুতপা সাহা, দীপ্র নিশান্ত, পার্থ প্রতীম রায়, মহুয়া মঞ্জরী, নাঈমা ইসলাম, আরিমা তাবাসসুম, শারমিন সুলতানা এবং তানজীনা তমা।
খবরওয়ালা/জেআর