গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার সকালে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের মহদীপুর ইউনিয়নের ঠুটিয়াপাকুর এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
নিহত নারী রিক্তা বেগম (বয়স আনুমানিক মধ্য ত্রিশের কোঠায়), গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহার বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং আইজল হকের স্ত্রী। দুর্ঘটনার সময় তিনি বাসের ভেতরে যাত্রী হিসেবে অবস্থান করছিলেন। বাসটি খাদে পড়ে গেলে তিনি বাসের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নিউ সাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। সকাল প্রায় ৭টার দিকে ঠুটিয়াপাকুর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে বাসটি সড়ক ছেড়ে পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
আহত যাত্রীদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। তাদের উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল এবং স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ আহত যাত্রীর শরীরে আঘাত ও কাটা-ছেঁড়ার চিহ্ন রয়েছে। তবে কয়েকজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন যাত্রী জানান, বাসটি হঠাৎ দুলতে শুরু করার পর সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে যায়। তারা বলেন, খাদে পানির পরিমাণ কম থাকায় অনেক যাত্রী দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। পানির গভীরতা বেশি হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
বিষয়
তথ্য
দুর্ঘটনার স্থান
ঠুটিয়াপাকুর, মহদীপুর ইউনিয়ন, পলাশবাড়ী
জেলা
গাইবান্ধা
সময়
সকাল প্রায় ৭টা
যানবাহন
নিউ সাফা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস
নিহত
১ জন (রিক্তা বেগম)
আহত
অন্তত ১৫ জন
গন্তব্য
গাইবান্ধা
উদ্ধারকারী সংস্থা
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ
পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের কাজও শুরু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পলাশবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহত রিক্তা বেগমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।