খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে জোবায়েদ (২৬) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জোবায়েদ অভিযুক্ত মো. রানার (৩৮) আপন মামাতো ভাই। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত শুক্রবার (২৯ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া-হোসেনপুর পাকা সড়কের শৈলজানি এলাকার পুরপুরা ব্রিজের ওপর একটি রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জোবায়েদকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আইনি প্রক্রিয়া ও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ শনিবার (৩০ মে) রাতে নিহতের পিতা আলতাফ উদ্দীন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জনি মিয়াকে।
তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় শনিবার সকালেই পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে প্রধান আসামি মো. রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রানা পাকুন্দিয়া উপজেলার চরপলাশ গ্রামের মো. ফিরোজ মিয়ার ছেলে। আজ রবিবার (৩১ মে) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রানা ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। রানার দেওয়া তথ্যমতে, পারিবারিক আত্মীয়তার সুবাদে তার স্ত্রীর সঙ্গে জোবায়েদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে পরকীয়ায় রূপ নেয়।
বিরোধের সূত্রপাত: প্রায় দুই মাস আগে রানা এই সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি তার স্ত্রী ও জোবায়েদ উভয়কে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ জানালেও জোবায়েদ তা অমান্য করে সম্পর্ক বজায় রাখেন।
পারিবারিক কলহ: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানা ও তার স্ত্রীর মধ্যে তীব্র পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রানার স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান।
উত্তেজনা ও পরিকল্পনা: ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন যে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে না থেকে জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। রানা সেখানে গিয়ে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের স্পৃহা থেকে তিনি জোবায়েদকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন।
হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন: পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদুল আজহার পরের দিন (শুক্রবার) রাতে রানা জোবায়েদকে তার বাড়ি থেকে ডেকে বের করেন। এরপর তাকে উপজেলার শৈলজানি এলাকার পুরপুরা ব্রিজের ওপর নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. জনি মিয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রবিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ড এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রধান তথ্যসমূহ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও ব্যক্তি |
| ভিকটিম (নিহত ব্যক্তি) | জোবায়েদ (২৬) |
| প্রধান আসামি | মো. রানা (৩৮), পিতা: মো. ফিরোজ মিয়া |
| আসামি ও ভিকটিমের সম্পর্ক | আপন মামাতো ভাই |
| ঘটনাস্থল | শৈলজানি এলাকা, পুরপুরা ব্রিজ, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ |
| হত্যাকাণ্ডের সময় | ২৯ মে (শুক্রবার), রাত আনুমানিক ৮:০০ টা |
| মামলার বাদী | আলতাফ উদ্দীন (নিহতের পিতা) |
| মামলা দায়েরের তারিখ | ৩০ মে (শনিবার) রাত |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | মো. জনি মিয়া (উপপরিদর্শক, পাকুন্দিয়া থানা) |
| আসামির বর্তমান অবস্থা | গ্রেপ্তারপূর্বক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ (৩১ মে, রবিবার) |