খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
তীব্র বৃষ্টিপাতের পর গত দুদিন ধরে কড়া রোদে সিলেটের আকাশ তপ্ত রূপ ধারণ করেছে। এর মাঝেই আকাশে মাঝে মধ্যে জমে থাকা সাদা মেঘের খেলা দেখা যাচ্ছে। জৈন্তা পাহাড়ের সবুজে যখন এই মেঘ উড়ে বেড়ায়, তখন লাগুয়া তামাবিল সড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলোর গতি কমে আসে। সবুজ পাহাড়ের সঙ্গে সাদা মেঘের মিতালির এই প্রাকৃতিক দৃশ্য সিলেটে আসা পর্যটকদের চিত্ত ও মনকে আনন্দোলিত করে তুলছে। একই সাথে বর্তমান সময়ে সিলেটের নদী এবং হাওরগুলোও পানিতে টই-টুম্বুর অবস্থায় রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটের প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটে এসেছেন নানা বয়সী মানুষ। তপ্ত রোদ আর ভ্রমণের সব ক্লান্তি ভুলে তারা ছুটছেন পাহাড় থেকে নেমে আসা ঠান্ডা ঝর্ণার ধারায়। পর্যটকেরা সবুজ চা বাগানে কিংবা পাথর ও জলধারার মেলবন্ধনে সময় কাটাচ্ছেন। বর্ষাকালে সিলেট সীমান্তে অবস্থিত ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর আর সবুজে মোড়ানো চা বাগানগুলো যেন নতুন রূপ ধারণ করেছে। প্রকৃতি-প্রেমী মানুষ মনের খুশিতে দিন-রাত এসব স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং একইভাবে সিলেটের হাওর অঞ্চলেও পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা ও ভিড় দেখা গেছে।
পর্যটকদের এই বিপুল আগমনে সিলেটের হোটেল-মোটেল এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। ভ্রমণকারীরা দিনের আলোয় প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন এবং রাতের বেলা হোটেল-রেস্টুরেন্টের আলোয় সুস্বাদু খাওয়া-দাওয়ায় ব্যস্ত থাকছেন। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন সবুজে ঘেরা এই নির্মল পরিবেশে। সিলেটের সাদাপাথর, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, জাফলং, সবুজ চা-বাগান, মাধবকুন্ডের ঝর্ণা, হাকালুকি হাওর ও টাঙ্গুয়ার হাওরসহ শত শত পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে বর্তমানে হাজারো মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান গড়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকদের আসার কারণে দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফিরেছে।
সিলেটের পর্যটন খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও যাতায়াত ব্যবস্থায় বেশ কিছু সংকট রয়েছে বলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অনেক পর্যটক উল্লেখ করেছেন যে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে পথের দুর্ভোগ এবং রেলওয়ের টিকিটের তীব্র সংকট সিলেটে আসার আনন্দকে অনেকটাই ফিকে করে দেয়। এই সমস্যা সমাধানে তারা সিলেট-ঢাকা ৬ লেন সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সিলেটে যাতায়াতের জন্য রেলের বগি বৃদ্ধি করাসহ আরও কয়েক জোড়া নতুন ট্রেন চালু করার দাবিও তুলেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের ভাড়াও অত্যাধিক, যা সাধারণ পর্যটকদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয় বলে তারা জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং পর্যটন স্পটগুলোর অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করলে সিলেটের এই প্রাকৃতিক কেন্দ্রগুলো বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, সিলেট জেলার বেশিরভাগ প্রধান পর্যটন স্পট জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা এলাকায় অবস্থিত। এই অঞ্চলের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পুরো এলাকাটিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এলাকাটিকে একটি পরিকল্পিত ও বিশ্বমানের পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অঞ্চলটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিতে পারলে শুধু দেশের মানুষই নয়, বরং পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিদেশি পর্যটকেরাও সিলেটে ছুটে আসবেন এবং এর ফলে অত্র অঞ্চলে ব্যাপকভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।